৬ মাস ধরে বন্ধ ফেলোশিপ! আর্থিক সংকটে গবেষকরা, বকেয়া মেটানো ও বৃত্তি বৃদ্ধির দাবিতে  স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিনস (SVMCM) পিএইচডি ফেলোশিপের অর্থ। এর জেরে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মাসিক মাত্র ৮ হাজার টাকার ফেলোশিপে গবেষণার খরচ চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে নিয়মিত বৃত্তির অর্থ না মেলায় ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে গবেষকমহলে।এই পরিস্থিতিতে বকেয়া ফেলোশিপ দ্রুত মেটানো, বৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অর্থ প্রদানের দাবিতে সরব হয়েছেন গবেষকরা। ১১২ জন গবেষক যৌথভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন।

পাশাপাশি একই দাবিতে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আজ  ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। গবেষকদের অভিযোগ, প্রতি তিন মাস অন্তর ফেলোশিপের অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও গত ছয় মাস ধরে কোনও অর্থ তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। ফলে গবেষণার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ সামলানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক  গবেষক গৌরাঙ্গ পাল বলেন, “বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ৮ হাজার টাকায় একজন গবেষকের পক্ষে নিজের খরচ চালানো এবং গবেষণার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। তার উপর ফেলোশিপের টাকা মাসের পর মাস আটকে থাকায় সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ফিল্ড ওয়ার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ গবেষণামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা চাই প্রতি মাসে নিয়মিত ফেলোশিপ প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক।”বিশ্ববিদ্যালয়ের আর এক  গবেষক অনুপ কুমার বর্মন জানান, “জেআরএফ (JRF) বা এসআরএফ (SRF) প্রাপকদের তুলনায় এই ফেলোশিপের পরিমাণ অত্যন্ত কম। অথচ গবেষণার পরিশ্রম ও দায়বদ্ধতা সবার ক্ষেত্রেই সমান। তাই অবিলম্বে ফেলোশিপের পরিমাণ বৃদ্ধি করে অন্তত ২০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছি।”একই সুরে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পিংকি সরকার বলেন, “গবেষণার জন্য আমরা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করছি। অনেকের ক্ষেত্রেই এই ফেলোশিপই একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও বৃত্তির পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি গবেষকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।”গবেষকদের দাবি, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের স্বার্থে সরকারের উচিত গবেষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাঁদের মতে, আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর হলে গবেষকরা আরও স্বাধীনভাবে ও মনোযোগের সঙ্গে গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করতে পারবেন।এখন নজর রাজ্য সরকারের দিকে। গবেষকদের দীর্ঘদিনের এই দাবি ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সরকার কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে শিক্ষামহল।