৪৯ বছরে রায়গঞ্জের যানজটের মাস্টার প্ল্যানই করতে পারেনি বাম-তৃণমূল, উন্নয়নের উপদেশও তাই মানায় না: কার্তিক পাল
তন্ময় চক্রবর্তী কালিয়াগঞ্জ, ২৭ সেপ্টেম্বর:দীর্ঘ ৪৯ বছরের শাসনকালে রায়গঞ্জ শহরের যানজট সমস্যা সমাধানে একটি কার্যকর মাস্টার প্ল্যান তৈরি করতে পারেনি বাম ও তৃণমূল—এমনই অভিযোগ তুলে সরব হলেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল। তাঁর বক্তব্য, যারা এত বছর ধরে জেলা শহর রায়গঞ্জের একটি মৌলিক সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনাই করতে পারেনি, তাদের কাছ থেকে এখন উন্নয়নের উপদেশ শোনার কোনও প্রয়োজন নেই।শনিবার রায়গঞ্জে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, “বাম ও তৃণমূলের দুই রাজত্ব মিলিয়ে ৪৯ বছরের মধ্যে রায়গঞ্জের যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা সম্ভব হয়নি। অথচ এখন তাঁরাই উন্নয়নের কথা বলছেন।”ভোটের সময় উন্নয়ন নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় বলেও মন্তব্য করেন সাংসদ। তাঁর কথায়, “ভোট বড় বালাই। ভোট এলেই অনেকে কুমিরের কান্না কাঁদেন।”

তবে তাঁর দাবি, বর্তমান সরকারের আমলে উত্তর দিনাজপুর জেলায় একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প শুধুমাত্র ঘোষণা বা ভাষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সেগুলি প্রশাসনিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে এবং বেশ কিছু প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।কার্তিক পাল জানান, গত চার মাসের মধ্যে কালিয়াগঞ্জ মহিলা কলেজ, হেমতাবাদ কলেজ, রায়গঞ্জ আইন কলেজ এবং করণদীঘিতে হাসপাতাল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে। তাঁর দাবি, এগুলি কোনও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রকল্প এবং ইতিমধ্যে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।শুধু বিজেপি পরিচালিত পুরসভা নয়, অন্য দলের নিয়ন্ত্রণাধীন পুরসভাতেও উন্নয়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন সাংসদ। তিনি বলেন, ইসলামপুর পুরসভা বিজেপির অধীনে নয়, ডালখোলা পুরসভাও বিজেপির নয়। তা সত্ত্বেও ওই দুই পুরসভার উন্নয়নের জন্য নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।কার্তিক পালের দাবি, কালিয়াগঞ্জ পুরসভার জন্য প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা এবং রায়গঞ্জ পুরসভার জন্য প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে জেলার সাতটি বিধানসভা এলাকা এবং চারটি পুরসভায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হতে চলেছে বলেও জানান তিনি।সাংসদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা (পিএমজিএসওয়াই)-এর মাধ্যমে উত্তর দিনাজপুর জেলায় প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাজ শুরু হতে চলেছে। তাঁর দাবি, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এই প্রকল্পগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বরাদ্দ নিয়েও সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কার্তিক পাল। তাঁর দাবি, আগে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও এবার সেই বরাদ্দ বেড়ে প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা হয়েছে। এই বরাদ্দ থেকে উত্তর দিনাজপুর জেলা উল্লেখযোগ্য অর্থ পাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।উন্নয়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, “আমরা জনগণের আশীর্বাদে জিতে এসেছি। ভোট নিয়ে কোনও রাজনীতি করি না। সাংসদের উন্নয়নের ছবি দিয়ে নয়, কাজ দিয়ে বিচার করুন।”রায়গঞ্জের যানজট থেকে শুরু করে কলেজ, হাসপাতাল, পুরসভা এবং গ্রামীণ সড়ক—একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

