
হিন্দুত্বের ধ্বজা উড়িয়ে কমিউনিস্ট মতধারায় বিশ্বাসী প্রার্থী রায়গঞ্জের কৌশিক চৌধুরী! নির্বাচনের আগে রায়গঞ্জের বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে পিতার মুখাগ্নি-শ্রাদ্ধ না করার মত গুরুতর অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোড় চর্চা রায়গঞ্জ বিধানসভায়।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রায়গঞ্জ বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী কৌশিক চৌধুরী। তাঁর বাবার মৃত্যুর পর মুখাগ্নি না করা এবং শ্রাদ্ধক্রিয়া না করার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শাণিত করেছে বাম-কংগ্রেস সহ একাধিক রাজনৈতিক দল। এদিকে বিজেপির নিজস্ব উদ্বাস্তু ও মতুয়া সংগঠনের নেতারাও বিষয়টিকে ‘অসংস্কারিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অভিযোগ, পিতার মৃত্যুর পর মুখাগ্নি ও পরবর্তী শ্রাদ্ধের আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেননি। এই ঘটনা সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে কংগ্রেস। জাতীয় কংগ্রেসের দাবী, বিজেপি হিন্দুত্বের নামে ভোট চায়, অথচ তাদের প্রার্থীই হিন্দু ধর্মীয় রীতি মানতে ব্যর্থ। এটা মানুষের সাথে প্রতারণা বলে কটাক্ষ করেন কংগ্রেস নেতা রথীন্দ্র নাথ দেব

পাশাপাশি এসএউসিআই এর জেলা নেতা দুলাল রাজবংশী অভিযোগ তুলে বিজেপি প্রার্থীকে মহম্মদ আলি জিন্নাহ-র সাথে তুলনা করেন। ধর্মীয় অনুশাসন না মানাতে তার বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং প্রার্থী হওয়াটাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হয় না বলে দাবী করেন এসইউসিআই নেতৃত্ব।
অন্যদিকে মতুয়া মহাসংঘের আহ্বায়ক বাবূলাল বালা বলেন মতুয়া বা উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি কাউকে প্রার্থী করা হয়নি। আর হিন্দু রিতী ও ঐতিহ্য যদি কেউ ভেঙে থাকেন তাহলে তিনি কোনো সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী তা নিয়ে প্রশ্ন থাকেই।
অন্যদিকে রায়গঞ্জের বিজেপি প্রার্থী কৌশিক চৌধুরী এই প্রসঙ্গে বলেন, আমার ইতিহাস সবাই জানে এটা ভোটের রাজনীতিতে এটাই বাকি ছিল আর অন্যভাবে যদি কেউ লড়াই না করতে পারে তখন এইভাবে মিথ্যে আইপ্যাক এর সাজানো গল্প দিয়ে তারা ভোটের লড়াইয়ে লড়তে চায়। আমি এই অভিযোগ ধুলিস্যাৎ করছি। ওরা জানে না যারা জানেনা তাদেরকে আইপ্যাক করাচ্ছে। বিজেপি তে বিক্ষুব্ধ কেউ নেই। এটাতে ভোটের কোন প্রভাব পড়বে না। মানুষ জানে। এইসব মিথ্যে অভিযোগ। যারা এটা করছে যাদের পিছনে যারা আছে তাদের ইতিহাস খুব খারাপ তাদের ভবিষ্যৎও খুব খারাপ হয়ে যাবে এটা আমি বলছি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রায়গঞ্জ বিধানসভায় মতুয়া ও উদ্বাস্তু ভোটারদের সংখ্যা যথেষ্ট। এই বিতর্ক সরাসরি কৌশিক চৌধুরীর জনসম্পর্ক ও ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে। আর বিজেপির ভিতরেই যদি এই ইস্যুতে অসন্তোষ ছড়ায়, তাহলে দলকে বড় ধাক্কার মুখে পড়তে হতে পারে।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট বক্তাদের ব্যক্তিগত বক্তব্য ও মতামতের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কোনো তথ্য বা বক্তব্য নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে ‘‘বর্তমানের কথা” কর্তৃপক্ষ তার জন্য দায়ী থাকবেনা।
