স্কুলের পথেই আবর্জনার পাহাড়! দুর্গন্ধে নাকাল রায়গঞ্জের ১ নম্বর ওয়ার্ড, ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা—আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
রায়গঞ্জ:রায়গঞ্জ শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা নিয়ে ফের উঠল বড় প্রশ্ন। রায়গঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের শিলিগুড়ি মোড় সংলগ্ন সুদর্শনপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, দোকানদার, পথচারী এবং প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী শত শত স্কুলপড়ুয়া। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা, আর জঞ্জালের স্তূপ রাস্তার একাংশ দখল করে নেওয়ায় প্রতিদিনই বাধার মুখে পড়ছে সাধারণ মানুষের চলাচল।সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এলাকার দুটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রধান রাস্তার পাশেই দিনের পর দিন পড়ে রয়েছে এই বিপুল পরিমাণ আবর্জনা। ফলে ছোট ছোট পড়ুয়াদের নাক চেপে এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষাকালে পচনশীল বর্জ্য থেকে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবও বেড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া-সহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।এলাকার ব্যাটারিচালিত স্কুটি ব্যবসায়ী কামরুল হক জানান, তাঁর দোকানের সামনেই এই আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “একাধিকবার রায়গঞ্জ পৌরসভায় লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। চার-পাঁচ দিন আগেও আবার অভিযোগ জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ব্যবসা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ক্রেতারাও দুর্গন্ধের কারণে দোকানে আসতে চাইছেন না।”শুধু কামরুল হক নন, এলাকার অন্যান্য দোকানদার ও বাসিন্দারাও একই অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার কথা জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ফলে প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন না হলে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। প্রয়োজনে এলাকাবাসীদের নিয়ে রাস্তা অবরোধের মতো কর্মসূচিও গ্রহণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে রাস্তার ধারে জমে থাকা আবর্জনা সম্পূর্ণ অপসারণ করতে হবে এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ওই এলাকায় নির্দিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা ও নিয়মিত নজরদারিরও দাবি উঠেছে।এদিকে বিষয়টি রায়গঞ্জ পৌর প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এখন প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং কবে এই দীর্ঘদিনের সমস্যা থেকে মুক্তি পান এলাকার মানুষ, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রায়গঞ্জের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
