সাংবাদিকদের জন্য শুভেন্দুর বড় উপহার! পেনশন ₹৫,০০০, পুজোয় ₹৩,০০০ বোনাস, সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা—বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের

মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এতদিন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ২৫০০ টাকার পেনশন চালু ছিল। তবে সেই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকা ছিল অন্যতম শর্ত।সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন বাড়িয়ে মাসে ৫০০০ টাকা করার কথা জানালেন তিনি। একইসঙ্গে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য পুজোর আগে বোনাস বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করার ঘোষণাও হয়েছে।

শুধু তাই নয়, অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে রাজ্যের সমস্ত সাংবাদিককে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এতদিন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ২৫০০ টাকার পেনশন চালু ছিল। তবে সেই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকা ছিল অন্যতম শর্ত। ফলে সংবাদমাধ্যমের বহু কর্মী, বিশেষ করে ডেস্কে কাজ করা সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন কাজ করেও এই সরকারি সুবিধার বাইরে থেকে যেতেন।অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড মূলত নির্দিষ্ট শর্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের পর সাংবাদিকদের দেওয়া হয়। মাঠে কাজ করা সাংবাদিকদের একটি অংশ এই কার্ড পেলেও ডেস্ক সাংবাদিকদের বড় অংশই এর আওতায় থাকেন না। ফলে একই পেশায় দীর্ঘদিন কাজ করলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল। সেই সমস্যা দূর করতেই এবার পেনশন ব্যবস্থায় নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মাসিক পেনশন দ্বিগুণ করে ৫০০০ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড না থাকলেও যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা এই সুবিধা পাবেন। ফলে সংবাদমাধ্যমের আরও বেশি কর্মী এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন বলে মনে করা হচ্ছে।কর্মরত সাংবাদিকদের জন্যও পুজোর আগে আর্থিক সহায়তা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন কলকাতা ও জেলার অ্যাক্রিডিটেশনধারী সাংবাদিকদের পুজোর আগে সরকারের তরফে কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হত। এবার সেই অর্থ বাড়িয়ে ৩০০০ টাকা করা হয়েছে। একইসঙ্গে এখান থেকেও অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রাজ্যের যে সাংবাদিকরা এই সুবিধার জন্য আবেদন করবেন, তাঁদের সকলকেই পুজোর বোনাস দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।স্বাস্থ্যসুরক্ষার ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যের সমস্ত সাংবাদিককে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার সুবিধার আওতায় আনা হবে। এর ফলে কর্মরত সাংবাদিকদের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত আরও অনেকেই চিকিৎসা সংক্রান্ত আর্থিক সুরক্ষা পেতে পারেন।সাংবাদিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের এবং তাঁর সমালোচনা সংবাদমাধ্যম করতেই পারে। গঠনমূলক আলোচনা ও মতপার্থক্যও স্বাভাবিক। প্রয়োজনে সাংবাদিকদের তাঁর সঙ্গে দেখা করেও নিজেদের বক্তব্য জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে একইসঙ্গে দেশপ্রেম ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়েও সতর্ক থাকার বার্তা দেন শুভেন্দু।