সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের — মিডিয়ায় মন্তব্য থেকে তথ্য ফাঁস, সব ক্ষেত্রেই কড়া নজরদারি
রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন এবং কড়া নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরকারি তথ্যের অপব্যবহার রোধ করা এবং সরকারি কর্মীদের আচরণবিধি আরও কঠোরভাবে কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনিক মহলে মনে করা হচ্ছে। নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চর্চা।সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন না।

পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সরকারি তথ্য, নথি বা প্রশাসনিক কাগজপত্র তুলে দেওয়াও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।শুধু তাই নয়, সরকারের অনুমতি ছাড়া সংবাদপত্র বা সাময়িকীতে কোনো লেখা লেখা কিংবা কোনো পত্রিকা সম্পাদনা বা পরিচালনার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এমনকি রেডিও, টিভি বা অন্য কোনো সম্প্রচার মাধ্যমে বক্তব্য পেশ করার ক্ষেত্রেও সরকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।নতুন নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইএএস, আইপিএস, ডব্লিউবিসিএস সহ রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মী, জেলা কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা, পুরনিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের উপর এই নিয়ম কার্যকর হবে।এছাড়াও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরূপ মন্তব্য বা সমালোচনা করা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদেশনীতি বা কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এমন কোনো মন্তব্য বা প্রকাশনাকেও শাস্তিযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।সরকারি সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তবে বিরোধী মহলের একাংশের অভিযোগ, এই নির্দেশিকা সরকারি কর্মীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে বিভাগীয় ভিত্তিতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে এই নতুন নিয়ম নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
