রেল মানচিত্রে নতুন গতি রায়গঞ্জে , গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের স্টপেজ ও রাধিকাপুর–দিল্লি সুপারফাস্ট ট্রেন চালুর দাবিতে সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল এর  উদ্যোগ

তন্ময় চক্রবর্তী ঃ- রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের রেল যোগাযোগ আরও মজবুত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের দাবিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠালেন রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল।

একদিকে যেমন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস ও প্রিমিয়াম ট্রেনের স্থায়ী ও পরীক্ষামূলক স্টপেজ চাওয়া হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে রাধিকাপুর থেকে দিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনাল পর্যন্ত নতুন দৈনিক সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।সাংসদের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর দিনাজপুর ও সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষ—ছাত্রছাত্রী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ—দীর্ঘদিন ধরেই রেল পরিষেবার অভাবে সমস্যায় পড়ছেন। এই অঞ্চলের বহু স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হলেও বহু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন সেখানে দাঁড়ায় না।

 

ফলে যাতায়াতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।চিঠিতে সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল যে স্টেশনগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের স্থায়ী বা পরীক্ষামূলক স্টপেজ চেয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে—ডালখোলা (DLK): দেওঘর–আগরতলা উইকলি এক্সপ্রেস, নর্থ ইস্ট সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস, কলকাতা–সাইরাং এক্সপ্রেস, এনজেপি–নাগেরকয়েল ও এনজেপি–তিরুচিরাপল্লি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস।কানকি (KKA): ডিব্রুগড় এক্সপ্রেস ও ক্যাপিটাল এক্সপ্রেস।বাংলাবাড়ী (BJY): রাধিকাপুর–কলকাতা এক্সপ্রেস ও রাধিকাপুর–এসএমভিটি বেঙ্গালুরু উইকলি এক্সপ্রেস।সুরজাকামাল (SJKL): শিলিগুড়ি–রাধিকাপুর ডেমু পরিষেবা।

 

বান্দেল জংশন: কুলিক এক্সপ্রেস (রাধিকাপুর–হাওড়া সংযোগ)।দমদম জংশন: রাধিকাপুর–কলকাতা এক্সপ্রেস।বরসই জংশন: ডিব্রুগড় রাজধানী এক্সপ্রেস।সাংসদের মতে, এই স্টপেজগুলি চালু হলে গোটা অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং রেল যাত্রীসংখ্যাও বাড়বে।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠিতে সাংসদ রাধিকাপুর থেকে দিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনাল পর্যন্ত নতুন দৈনিক সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন। আগে চালু থাকা রাধিকাপুর–আনন্দ বিহার সীমাঞ্চল সুপারফাস্ট লিংক এক্সপ্রেসটি এলএইচবি কোচে রূপান্তরের সময় বন্ধ হয়ে যায়। রেল বোর্ড ২০২০ সালে প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও পূর্ণাঙ্গ দৈনিক ট্রেন চালু হয়নি—এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন সাংসদ।প্রস্তাবিত রুট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—রাধিকাপুর – রায়গঞ্জ – বরসই – কাটিহার – হাজিপুর – বারাণসী – অযোধ্যা ধাম – লখনউ – কানপুর – আনন্দ বিহার টার্মিনাল।চিঠিতে বলা হয়েছে, এই রুট চালু হলে—হাজিপুর ও পাটনায় উন্নত চিকিৎসার সুযোগ মিলবে । বারাণসী ও অযোধ্যা ধামের সঙ্গে সরাসরি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ গড়ে উঠবে ।লখনউ ও কানপুরের সঙ্গে প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ সহজ হবে .শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উত্তর দিনাজপুরের মানুষের চলাচল অনেক সহজ হবে । সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল রেলমন্ত্রীর কাছে দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।চিঠির খবর ছড়িয়ে পড়তেই রায়গঞ্জ ও সংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের রেল-দাবি বাস্তবায়িত হলে উত্তর দিনাজপুর জেলার সার্বিক উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।