“‘রিপোর্ট কার্ড বনাম প্রতিশ্রুতি’—করণদিঘির মঞ্চ থেকে কেন্দ্রকে তোপ, হাজারো জনতার মাঝে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়”

 

তন্ময় চক্রবর্তী করণদিঘী থেকে: বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘিতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থনে এক বিশাল জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া এই সভা থেকে তিনি একদিকে যেমন মূল্যবৃদ্ধি ও কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেন, তেমনই রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন সাধারণ মানুষের সামনে।বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, “আজ থেকে দশ বছর আগে জিনিসের দাম কোথায় ছিল, আর আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে—এটা একবার ভেবে দেখুন।”

 কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক জনবিরোধী নীতির সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং বাংলার ন্যায্য পাওনা আটকে রাখা হচ্ছে।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন করণদিঘি বিধানসভা এলাকায় গত কয়েক বছরে হওয়া উন্নয়নমূলক কাজের একটি ‘রিপোর্ট কার্ড’ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একদিকে বিজেপি তাদের ১২ বছরের শাসনের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুক, আর একদিকে আমরা ১৫ বছরের ‘মা-মাটি-মানুষ’ সরকারের কাজের হিসেব তুলে ধরছি। মানুষ বিচার করবে কে কাজ করেছে, আর কে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

”বিজেপি প্রার্থীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “নিজেদের দলের নেতা-কর্মীরাই যাকে মানতে চান না, সেই প্রার্থীকে সামনে আনা হয়েছে। এমনকি তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে শুনছি। যদি এটাই প্রার্থীর পরিচিতি হয়, তাহলে মানুষ বুঝে নেবে তিনি জিতলে এলাকার উন্নয়ন নয়, অন্য কাজেই ব্যস্ত থাকবেন।”একই সঙ্গে ২০১৯ সালের সাংসদ দেবশ্রী দেবীকে নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বিজেপি নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ঐক্য রাখতে পারে না। ঝগড়া-বিবাদেই ব্যস্ত তারা।”চ্যালেঞ্জের সুরে অভিষেক বলেন, “নরেন্দ্র মোদী সরকার ১২ বছর দেশ চালিয়েছে, আর বাংলায় ১৫ বছর ধরে ‘মা-মাটি-মানুষ’ সরকার কাজ করছে। সাহস থাকলে নিজেদের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুক, আমরা আমাদের কাজ নিয়ে মানুষের সামনে দাঁড়িয়েছি। মানুষের আদালতেই বিচার হবে।”সভা শেষে তিনি কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, ইটাহার, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়া, চোপড়া এবং করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীদের মঞ্চ থেকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁদের জয়ের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে সমর্থন চান।এদিনের এই জনসভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি, এই জনসমাগমই প্রমাণ করছে যে, আগামী নির্বাচনে মানুষের সমর্থন তাদের দিকেই রয়েছে।