রাস্তা দখল করে বালি-পাথর রাখলেই এবার জরিমানা!

কলকাতা: রাজ্যের শহর ও শহরতলির রাস্তাঘাট দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বালি, পাথর, ইট, স্টোনচিপস কিংবা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার প্রবণতার বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন, যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ রুখতে নতুন করে কড়া সতর্কবার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

কড়া বার্তা পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের—‘সরকারি রাস্তা নয়, নির্মাণসামগ্রী রাখুন নিজের সীমানার মধ্যে’

মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাড়ি নির্মাণ বা সংস্কারের জন্য কেনা বালি, পাথর, ইট, সিমেন্ট কিংবা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী কোনও অবস্থাতেই সরকারি রাস্তা, ফুটপাত বা জনসাধারণের ব্যবহৃত স্থানে ফেলে রাখা যাবে না। সমস্ত নির্মাণসামগ্রী সংশ্লিষ্ট বাড়ি বা নির্মীয়মাণ ভবনের নিজস্ব সীমানার মধ্যেই সংরক্ষণ করতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা নির্মাণকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জরিমানাও করা হবে।মন্ত্রী বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হওয়ার পর সপ্তাহের পর সপ্তাহ এমনকি মাসের পর মাস রাস্তার উপর বালি, পাথর ও ইটের স্তূপ পড়ে থাকে।

এর ফলে রাস্তার প্রস্থ কমে যায়, যানবাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি হয় এবং পথচারীদেরও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বর্ষাকালে এসব নির্মাণসামগ্রী নিকাশি ব্যবস্থাকেও বাধাগ্রস্ত করে, ফলে জল জমার সমস্যাও বাড়ে।তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের সুবিধা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের অনিয়ম আর বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে পুরসভা ও নগর প্রশাসনের আধিকারিকদের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে এবং অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শুধু রাস্তা দখল নয়, ফাঁকা জমি দীর্ঘদিন অযত্নে ফেলে রাখার বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্য সরকার। মন্ত্রী জানান, অনেক জমির মালিক বছরের পর বছর জমি পরিষ্কার না রাখায় সেখানে জঙ্গল, আগাছা ও আবর্জনার স্তূপ তৈরি হচ্ছে। এতে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, তেমনই মশা, সাপসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণীর উপদ্রব বাড়ছে। তাই জমির মালিকদের নিয়মিত জমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা দখল করে নির্মাণসামগ্রী রাখার ফলে শুধু যান চলাচলই ব্যাহত হয় না, জরুরি পরিষেবা—যেমন অ্যাম্বুল্যান্স, দমকল বা পুলিশি যানবাহনের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পথচারী ও দুই-চাকার যানবাহনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। ফলে এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।রাজ্যের নাগরিকদের উদ্দেশে পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের আবেদন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শহর গড়ে তুলতে সকলকে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। ব্যক্তিগত নির্মাণকাজের জন্য জনসাধারণের রাস্তা বা সরকারি জমি ব্যবহার করা যাবে না। নাগরিক সচেতনতা ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি—এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগর পরিবেশ।”সরকারের এই কড়া অবস্থানের ফলে ভবিষ্যতে রাস্তা দখল করে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার প্রবণতা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও নিয়ম মেনে নির্মাণকাজ পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।