রাস্তা কি জনসাধারণের, নাকি ব্যক্তিগত সম্পত্তি? কালিয়াগঞ্জে রাস্তার উপর নির্মাণ সামগ্রী ফেলে দখলদারির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানে পৌরসভা
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ৪ আগস্ট:উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পৌর শহরে রাস্তা চওড়া করার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও সেই রাস্তার পূর্ণ সুবিধা থেকে এখনও বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এক শ্রেণির অসচেতন ও স্বার্থপর ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণের জন্য ইট, বালি, পাথর, স্টোনচিপস, রড–সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী দিনের পর দিন রাস্তার উপর কিংবা রাস্তার দু‘ধারে ফেলে রেখে কার্যত রাস্তা দখল করে রাখছেন। এর ফলে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নিত্যদিন সমস্যায় পড়ছেন পথচারী, সাইকেল আরোহী, স্কুলপড়ুয়া ছাত্রছাত্রী এবং জরুরি পরিষেবার গাড়িও।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে মাসের পর মাস রাস্তার একাংশ দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কোনও ভ্রুক্ষেপ দেখা যায় না। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করলেও তা গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

ফলে প্রশস্ত রাস্তা থাকা সত্ত্বেও কার্যত সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পথ।রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আগে রাস্তা দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রাখা কিংবা রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে পৌর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও পৌর শহরের রাস্তার উপর নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা যাবে না এবং জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। নির্দেশ অমান্য করলে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানানো হলে দ্রুত পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে এক ঘণ্টার মধ্যেই রাস্তা থেকে ওই সামগ্রী সরিয়ে দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার বিজেপি কমিশনার গৌরাঙ্গ দাস বলেন,“পৌর শহরের রাস্তা জনসাধারণের সম্পত্তি। কোনও ব্যক্তি নিজের সুবিধার জন্য রাস্তা দখল করে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখতে পারেন না। সম্প্রতি পৌরসভার বোর্ড মিটিংয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কোনও ওয়ার্ডেই রাস্তার উপর বা রাস্তা দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রাখা যাবে না। কেউ এই নিয়ম ভঙ্গ করলে পৌরসভা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নাগরিকদেরও অনুরোধ, এমন ঘটনা দেখলে দ্রুত পৌরসভা বা থানাকে জানান।“তিনি আরও বলেন, পৌরসভার লক্ষ্য শুধু রাস্তা তৈরি করা নয়, সেই রাস্তা যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ব্যবহার করতে পারেন তা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব।পৌরসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের বাসিন্দারা।স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ সাহা বলেন,“আমরা কর দিই, যাতে ভালো রাস্তা পাই। কিন্তু কিছু মানুষের জন্য সেই রাস্তা ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে পড়ে। পৌরসভার এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। এবার যদি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে শহরের মানুষ উপকৃত হবেন।“অন্য এক বাসিন্দা মৌসুমি দাস বলেন,“স্কুলে যাওয়া ছোট ছোট ছেলে–মেয়েদের রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটতে হয়, কারণ ফুটপাত বা রাস্তার ধারে ইট–বালি ফেলে রাখা থাকে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। প্রশাসনের উচিত নিয়মিত নজরদারি চালানো এবং নিয়ম ভাঙলে জরিমানা করা।“ব্যবসায়ী সঞ্জয় আগরওয়াল বলেন,“রাস্তা দখল করে নির্মাণ সামগ্রী রাখা মানে শুধু যানজট নয়, ব্যবসারও ক্ষতি। ক্রেতাদের আসা–যাওয়ায় সমস্যা হয়। পৌরসভার এই উদ্যোগকে আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাই।

