রায়গঞ্জে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই, জনসমর্থনের ঢেউয়ে এগিয়ে তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী

তন্ময় চক্রবর্তী : উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র রায়গঞ্জ—এবারের নির্বাচনে যার দিকে তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে জল্পনা—পরিবর্তনের পথে হাঁটবেন, নাকি পুরনো নেতৃত্বের ওপরই ভরসা রাখবেন?এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেই রায়গঞ্জে ধরা পড়ছে ভিন্ন এক ছবি। চতুর্মুখী লড়াই থাকলেও গ্রামেগঞ্জে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী-কে ঘিরে আশাবাদ ও আস্থার বহিঃপ্রকাশ ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।প্রচারপর্বে যেখানেই যাচ্ছেন কৃষ্ণ কল্যাণী, সেখানেই তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

অনেকের কাছেই তিনি আর শুধুই প্রার্থী নন, বরং ঘরের মানুষ। গ্রামের মেঠোপথ হোক বা শহরের রাস্তা—সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে উৎসাহ, ভিড় এবং স্লোগানে মুখর পরিবেশ।সম্প্রতি রায়গঞ্জের গৌরী অঞ্চলে প্রচারে গিয়ে কৃষ্ণ কল্যাণীর সমর্থনে জনসমুদ্রের চিত্র দেখা যায়। হাজার হাজার মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরেন, ফুলের মালা ও পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে নেন। এরপর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিশাল বাইক র‍্যালি করেন তিনি, যার দৈর্ঘ্য চোখে পড়ার মতো ছিল।স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়,“কৃষ্ণ বাবুকে আমরা সারা বছর আমাদের পাশে পাই। যেকোনো সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি শোনেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেন। রাস্তা, আলো—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান রয়েছে। তাই আমরা তাঁকেই আবার সুযোগ দিতে চাই।”গ্রামের এক মহিলা ভোটার বলেন,“তিনি আমাদের ঘরের মানুষ হয়ে গিয়েছেন। কোনো প্রয়োজনে গেলে কখনো ফিরিয়ে দেন না। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাও আমরা পাচ্ছি। তাই আমরা ঠিক করেছি, এবারও তাঁকেই সমর্থন করব।”এই জনসমর্থনের প্রেক্ষিতে প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন,
“রায়গঞ্জের মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও আশীর্বাদ দিচ্ছেন, তা আমার কাছে বড় সম্পদ। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকার, তাদের সমস্যা শোনার এবং সমাধান করার। আগামী দিনেও সেই কাজ আরও জোরদারভাবে করে যেতে চাই। আমি সবাইকে বলছি, ২৩ এপ্রিল সকালে ভোট দিতে যান এবং গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশ নিন। আমি যেমন আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।”রাজনৈতিক মহলের মতে, যদিও এই কেন্দ্রে একাধিক দলের লড়াই রয়েছে, তবুও প্রচারের মাঠে জনসমর্থনের নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী অনেক  এগিয়ে রয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।ভোটের ফলাফলই শেষ কথা বলবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রায়গঞ্জের মাটিতে যে লড়াই ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং তৃণমূল প্রার্থীর পক্ষে জনসমর্থনের জোয়ার দেখা যাচ্ছে—তা নিঃসন্দেহে স্পষ্ট।