​রাধিকাপুরে টাঙ্গন নদীর গ্রাস, দীর্ঘ বঞ্চনার পর অবশেষে ত্রাতা রূপে বিধায়ক উৎপল মহারাজ! ‘উত্তরকন্যার বৈঠকে জোরালো সওয়াল

 

​তন্ময় চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুর :-বর্ষা আসার আগেই উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের রাধিকাপুর অঞ্চলে শুরু হয়েছে টাঙ্গন নদীর ভয়াবহ ভাঙন। নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি, আর তার সাথেই ক্রমশ এগিয়ে আসছে বসতভিটা। নদীর এই রুদ্ররূপে কার্যত বিনিদ্র রজনী কাটছে স্থানীয় গ্রামবাসীদের।

মাথার ওপর ছাদটুকু হারানোর চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েকশো পরিবার। তবে এই অন্ধকারের মধ্যেও অবশেষে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন রাধিকাপুরের মানুষ। সৌজন্যে, কালিয়াগঞ্জের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক উৎপল মহারাজ।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিগত সরকারের আমলে প্রতি বছরই এই ভাঙন সমস্যা দেখা দিয়েছে। বহুবার নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন গ্রামবাসীরা। পাকা বাঁধ নির্মাণ করে নদী ভাঙন স্থায়ীভাবে রোখার জন্য বারবার আর্জি জানানো সত্ত্বেও মেলেনি কোনো স্থায়ী সমাধান।

 

প্রতিবারই জুটেছে কেবলই ফাঁকা আশ্বাস। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে প্রশাসনের এই চরম উদাসীনতায় ক্ষোভে ফুঁসছিলেন রাধিকাপুর অঞ্চলের সাধারণ মানুষ।উত্তরকন্যায় সরব বিধায়ক উৎপল মহারাজ।​গ্রামবাসীদের এই দুর্দশা দূর করতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন কালিয়াগঞ্জের জয়ী বিজেপি বিধায়ক উৎপল মহারাজ। নদী ভাঙন রুখতে তিনি যে কোনো আপস করতে রাজি নন, তা প্রমাণ করে দিলেন শিলিগুড়ির প্রশাসনিক বৈঠকেই।সম্প্রতি শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’য় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রীর ডাকে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই রাধিকাপুরের টাঙ্গন নদীর ভয়াবহ ভাঙন পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন বিধায়ক।”রাধিকাপুরের মানুষ বছরের পর বছর ধরে নদী ভাঙনের আতঙ্কে ভুগছেন। রাজনৈতিক রঙ না দেখে অবিলম্বে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি বাঁচাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পাকা বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করতে হবে।”— উৎপল মহারাজ, বিধায়ক (কালিয়াগঞ্জ)বৈঠকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর সামনে রাধিকাপুরের নদী ভাঙন ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অত্যন্ত জোরালো সওয়াল করেন তিনি।বুক বাঁধছেন রাধিকাপুরের মানুষবিধায়কের এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপের খবর রাধিকাপুরে পৌঁছাতেই ভাঙন কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষের মুখে দীর্ঘকাল পর হাসি ফুটেছে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ এখন স্বপ্ন দেখছেন, হয়তো এবার সত্যিই নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধান হবে এবং তাঁদের ভিটেমাটি রক্ষা পাবে। কালিয়াগঞ্জের বিধায়কের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন দেখার, উত্তরকন্যা’র এই বৈঠকের পর প্রশাসন ঠিক কবে থেকে রাধিকাপুরে টাঙ্গন নদীর বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু করে।