মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে বিষধর চন্দ্রবোড়াকে খালি হাতে ধরলেন বাবা!সাপের ছোবল খেয়েও ছাড়লেন না, এক হাতে বিষধর সাপ নিয়ে হেঁটে গেলেন হাসপাতালে
নদিয়া, ২৪ আগস্ট: মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রেখে বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপকে খালি হাতে ধরে ফেললেন বাবা! এমনই শিউরে ওঠা সাহসিকতার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নদিয়ার হরিণঘাটা পৌরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুর এলাকায়।শুক্রবার দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে খাটে ঘুমিয়ে ছিল সঞ্জীব ওরাংয়ের মেয়ে। সেই সময় ঘরে ঢুকে বাবার চোখে পড়ে ভয়াবহ দৃশ্য—ঘুমন্ত মেয়ের গা ঘেঁষে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে রয়েছে একটি বিষধর চন্দ্রবোড়া সাপ। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন সঞ্জীববাবু। মেয়েকে জাগালে বা সামান্য শব্দ হলেই সাপটি ছোবল মারতে পারে—এই আশঙ্কায় তিনি কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি।কোনও লাঠি বা অস্ত্র খোঁজার সময় নষ্ট না করে প্লাস্টিকের সাহায্যে সাপটিকে জাপটে ধরে ফেলেন তিনি। সাপটি ধরার সময়ই সঞ্জীববাবুর হাতে বিষাক্ত ছোবল মারে। তবুও মেয়ের কথা ভেবে সাপটিকে ছেড়ে দেননি তিনি।

প্রবল ঝুঁকি উপেক্ষা করে সেটিকে প্লাস্টিকে ভালোভাবে মুড়ে ফেলেন।এরপর নিজের হাতে সাপের ছোবল থাকা অবস্থাতেই এক হাতে বিষধর সাপ নিয়ে পায়ে হেঁটে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন সঞ্জীব ওরাং। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল একদিকে যেমন সাপটিকে নিরাপদে সরিয়ে রাখা, অন্যদিকে চিকিৎসকদের কাছে সাপটিকে দেখিয়ে দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা।বর্তমানে সঞ্জীব ওরাং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মেয়ের জীবন রক্ষায় বাবার এই অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের ঘটনা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের কথায়, সন্তানের জন্য নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেওয়ার এমন নজির সত্যিই বিরল।তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, সঞ্জীববাবুর এই সাহসিকতা প্রশংসনীয় হলেও সাধারণ মানুষের কখনওই বিষধর সাপকে খালি হাতে ধরার চেষ্টা করা উচিত নয়। সাপ দেখতে পেলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বন দপ্তর বা প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।একদিকে বাবার বুকভরা সাহস, অন্যদিকে মেয়ের জন্য নিঃস্বার্থ ভালোবাসা—মোহনপুরের এই ঘটনা যেন পিতৃত্বের এক অনন্য নজির হয়ে রইল।

