“মালদায় দাঙ্গার চক্রান্ত বিজেপির—রায়গঞ্জের সভা থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার”

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর, ৩ এপ্রিল: বাংলার সুনাম নষ্ট করতে বিজেপি পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করে মালদায় দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করেছে বলে গুরুতর অভিযোগ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, এই চক্রান্তের মূল হোতাকে ইতিমধ্যেই সিআইডি বাগডোগরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

শুক্রবার উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ স্টেডিয়াম মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই দাবি করেন।নির্বাচনী জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার সম্মান নষ্ট করতে বিজেপি যে অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তা আমরা সফল হতে দিইনি। আমাদের সিআইডি সেই চক্রান্তকারীকেও গ্রেপ্তার করেছে। আমরা কোনভাবেই বাংলাকে বিজেপির এই ধরনের অপপ্রচারের শিকার হতে দেব না।” তিনি আরও বলেন, বাংলার মানুষ সচেতন এবং তারা কোনওভাবেই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রশ্রয় দেবে না।মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করে। তারা চায় বাংলার শান্তি নষ্ট হোক, মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি হোক। কিন্তু বাংলার মানুষ সেই ফাঁদে পা দেবে না।” তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “বাংলার মানুষ কখনও বিজেপি নামক দলকে এই বাংলায় জায়গা করে দেবে না।”এদিনের সভায় বক্তব্য রাখার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তর দিনাজপুর জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের নয়জন প্রার্থীকে মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁদের জয়ের জন্য মানুষের সমর্থন চান। তিনি বলেন, “আমাদের প্রার্থীরা মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছেন, আগামী দিনেও করবেন। তাই তাঁদের জয় নিশ্চিত করতে হবে।”ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিয়েও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি সব ধর্মকে সমান শ্রদ্ধা করি। তাই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মন্দির, মসজিদ, গির্জা—সবই তৈরি করা হয়েছে। আমাদের কাছে সব ধর্ম সমান, আমরা মিলেমিশে থাকতে চাই।”সরকারি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “লক্ষীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ভাতা বাড়িয়ে হাজার টাকা থেকে দেড় হাজার এবং এক হাজার সাতশো টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও বেকার যুবকদের জন্য ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে এবং মার্চ মাস থেকেই সেই টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি নানা প্রলোভন দেখিয়ে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য নিতে চাইতে পারে। তারা যদি বলে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা দেবে, তাহলে ভুল করেও ব্যাংকের বই বা তথ্য দেবেন না। কারণ টাকা দেওয়ার নাম করে তারা আপনার জমা টাকাও হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্ত করছে।”সবশেষে তিনি বলেন, বাংলার শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বজায় রাখতে তৃণমূল কংগ্রেসকেই সমর্থন করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, “বাংলাকে বাঁচাতে হলে, বাংলার উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত শক্ত করতে হবে।”এই সভাকে কেন্দ্র করে রায়গঞ্জে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায় এবং নির্বাচনী আবহে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।