“মন্ত্রীর ঘরের পাশে ভাঙন! হেমতাবাদে শতাধিক তৃণমূল কর্মীর কংগ্রেসে যোগ, ভোটের আগে চাঞ্চল্য”
ভোটের আগমুহূর্তে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসক শিবির। উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদ বিধানসভায় বিধায়ক তথা রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মনের নিজের পঞ্চায়েত এলাকাতেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের ছবি সামনে এল। মন্ত্রীর বাড়ির ঢিল ছোড়া দূরত্বেই কয়েক শতাধিক তৃণমূল কর্মী দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান করায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।মঙ্গলবার রাতে রায়গঞ্জ ব্লকের জগদীশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সোরিয়াবাদ এলাকায় এক বিশাল যোগদান সভার আয়োজন করা হয়।
জেলা যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ আলী সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় হেমতাবাদের কংগ্রেস প্রার্থী অনামিকা রায়-এর হাত ধরে প্রায় তিন শতাধিক তৃণমূল কর্মী কংগ্রেসে যোগ দেন।যোগদান সভা থেকে কংগ্রেস নেতৃত্ব সরাসরি রাজ্য সরকার ও স্থানীয় বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনুন্নয়নের অভিযোগ তোলেন। আমজাদ আলী সরকার দাবি করেন, পঞ্চায়েত স্তর থেকে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেতেও “কাটমানি” দিতে হচ্ছে। আবাস যোজনার টাকাতেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে মানুষ পরিবর্তনের পথ বেছে নিচ্ছেন।যোগদানকারী আনজার আলী জানান, দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও উন্নয়নের অভাবে তিনি দল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বিধায়ক ও মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও এলাকায় কলেজ, হাসপাতাল, মহিলা কলেজ বা ফায়ার ব্রিগেড—কোনও প্রতিশ্রুতিই পূরণ হয়নি। এমনকি জয়ের পর এলাকায় আর দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।অন্যদিকে ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কংগ্রেসে যোগদানকারী ফিরোজ আলম বলেন, উন্নয়নের আশায় মানুষ হতাশ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নতির কোনও দৃশ্যমান চিহ্ন না থাকায় বহু কর্মী কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে পারে একমাত্র কংগ্রেসই।এই ঘটনায় উৎসাহিত কংগ্রেস প্রার্থী অনামিকা রায় বলেন, রাজ্য সরকার কর্মসংস্থানের পরিবর্তে ভাতার রাজনীতি করছে। পাঁচ বছরে এলাকায় বাস্তব উন্নয়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক মানুষের কংগ্রেসে যোগদান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে কংগ্রেসকে সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি।যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই যোগদানে সংগঠনের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না।

