“ভোটের ময়দানে ‘মহারাজ’—প্রণাম, আবেগ আর পরিবর্তনের ডাক; কালিয়াগঞ্জে উৎসবের আবহে উৎপল মহারাজ”
তন্ময় চক্রবর্তী কালিয়াগঞ্জ: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ—এখন সেই তালিকায় জুড়ে গেছে ভোট উৎসবও। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা হতেই জেলায় জেলায় শুরু হয়েছে জোরদার প্রচার। উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রের মতোই কালিয়াগঞ্জেও রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ছুটে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে, সমর্থন চাইতে।তবে এবারের কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে চিত্রটা কিছুটা আলাদা। কারণ বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রাক্তন মহারাজ, উৎপল মহারাজ। আধ্যাত্মিক জগতের একজন পরিচিত মুখ রাজনীতির ময়দানে নামায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আবেগ—দুটোই চোখে পড়ার মতো।২ নং মণ্ডলের মুস্তফানগর অঞ্চলের ভেউড় বুথে কর্মীসভা ও জনসংযোগে গিয়ে যেন সেই ছবিই আরও স্পষ্ট হল।

মহারাজকে সামনে পেয়েই অনেকেই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করছেন, কেউ আবার বলছেন—“মহারাজজি, আমরা আপনার সঙ্গে আছি, আপনি এগিয়ে চলুন।” গ্রামজুড়ে যেন একপ্রকার উৎসবের আবহ—ঢাকঢোল না থাকলেও মানুষের ভিড়, উচ্ছ্বাস আর প্রত্যাশায় ভরপুর পরিবেশ।স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “আগে আমরা মহারাজের কাছে দীক্ষা নিতে যেতাম, এখন উনি নিজেই আমাদের কাছে আসছেন সমাজের জন্য কিছু করতে—এটা আমাদের কাছে গর্বের।” আরেকজনের দাবি, “উনি সৎ মানুষ, তাই আমরা চাই উনিই জিতুন। আমাদের এলাকায় কাজ হোক, সেটাই আশা।”এই আবেগঘন পরিবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উৎপল মহারাজ বলেন, “আমি রাজনীতিতে এসেছি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সেবা করার জন্য। এতদিন আপনাদের আশীর্বাদে ধর্মের পথে ছিলাম, এবার সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই এই পথে নামতে হয়েছে। পরিবর্তন এবার হবেই—কেউ আটকাতে পারবে না।”তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি আরও বলেন, “এত বছর ধরে যারা ক্ষমতায় থেকেও মানুষের সমস্যা মেটাতে পারেনি, তারা আবার উন্নয়নের কথা বলে! মানুষ সব দেখছে, সব বুঝছে। এবার মানুষই জবাব দেবে ভোটে।”তৃণমূল প্রার্থী নিতাই বৈশ্যকেও কটাক্ষ করে মহারাজ বলেন, “নেতা হতে গেলে আগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়। শুধু ভোটের সময় এসে প্রতিশ্রুতি দিলে মানুষ আর বিশ্বাস করবে না।”দিনভর গেরুয়া বসন পরে, মাথায় পাগড়ি বেঁধে কালিয়াগঞ্জের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছেন উৎপল মহারাজ। যিনি একসময় মানুষের কাছে ধর্মীয় বাণী দিতেন, আজ তিনিই মানুষের দুয়ারে গিয়ে বলছেন—“সমাজটাকে বদলাতে হবে, আপনাদের সঙ্গেই সেটা সম্ভব।”সব মিলিয়ে, কালিয়াগঞ্জে এবারের ভোট লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়—আবেগ, বিশ্বাস আর পরিবর্তনের প্রত্যাশার এক অন্যরকম সমীকরণ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

