ভোটের আগে কড়া নজরদারি: কালিয়াগঞ্জে থানায় জমা পড়ছে ১২৮টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক, সক্রিয় নির্বাচন কমিশন
তন্ময় চক্রবর্তী ঃ– দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি তৎপর হয়ে উঠেছে Election Commission of India। অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে জোরদার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।এবারের ভোটে যাতে কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কমিশন। প্রতি নির্বাচনের মতো এবারও নেওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তারই মধ্যে অন্যতম—লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ।প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই লাইসেন্সধারীদের কাছে নোটিশ পৌঁছে গেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, যাদের কাছে বৈধ লাইসেন্স সহ বন্দুক বা রিভলভার রয়েছে, তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই অস্ত্র থানায় জমা দিতে হবে।এই নির্দেশের পরই বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে, বহু লাইসেন্সধারী তাদের বন্দুক ও রিভলভার বাড়ি থেকে বের করে পরিষ্কার করে প্রস্তুত করছেন থানায় জমা দেওয়ার জন্য।উল্লেখ্য, এই অস্ত্রগুলি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণে প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই রাখা ছিল।

উত্তর দিনাজপুর জেলার Kaliyaganj এলাকায় এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।কালিয়াগঞ্জ থানা গান লাইসেন্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কানাই সেট জানান—“প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী লোকসভা হোক বা বিধানসভা—প্রতিবারই আমাদের বন্দুক থানায় জমা দিতে বলা হয়। নির্বাচন শেষ হলে আমরা জমার রশিদ দেখিয়ে আবার বন্দুক ফিরিয়ে নিয়ে আসি—এটাই নিয়ম।”তিনি আরও জানান, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইতিমধ্যেই বন্দুক জমা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।কানাই সেটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— কালিয়াগঞ্জে মোট লাইসেন্সধারী বন্দুকের সংখ্যা: ১২৮টি এর মধ্যে সিঙ্গেল ব্যারেল বন্দুক: ৮৯টি ডবল ব্যারেল ও রিভলভার মিলিয়ে বাকি অংশ ।সবকটি অস্ত্রই বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত বলে জানানো হয়েছে। কিছু লাইসেন্স উত্তর দিনাজপুর ছাড়াও প্রাক্তন পশ্চিম দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত এলাকায় ইস্যু করা।তিনি আরও জানান, তার নিজের বন্দুকের লাইসেন্স রয়েছে একাধিক রাজ্যে—বাংলা, বিহার, আসাম, ওড়িশা ও উত্তর প্রদেশে বহনের অনুমতি রয়েছে।“১৯৭৬ সাল থেকে আমি এই লাইসেন্সধারী বন্দুক ব্যবহার করছি। আমাদের পরিবারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই বন্দুক ব্যবহার করে আসছে,”—বলেন তিনি।এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে Election Commission of India— ভোট হোক সম্পূর্ণ নির্ভয়ে, কোথাও না হোক কোনও অশান্তি .নির্বাচনের আগে এই কড়া নজরদারি সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়াচ্ছে, তেমনি প্রশাসনের প্রস্তুতিকেও আরও দৃঢ় করছে।সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র থানায় জমা দেওয়ার এই প্রক্রিয়া শুধুমাত্র নিয়ম মেনে চলা নয়, বরং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।এখন দেখার, এই কঠোর পদক্ষেপ কতটা সফলভাবে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে পারে।
