ভারতীয় ভাষার সেতুবন্ধনে নতুন দিগন্ত—কালিয়াগঞ্জের তরঙ্গপুর বড়াল হরলাল বালিকা বিদ্যালয়ে সফল সাত দিনের ভাষা ক্যাম্প

উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের তরঙ্গপুর বড়াল হরলাল বালিকা বিদ্যালয়ে জেলা সর্বশিক্ষা মিশনের উদ্যোগে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত সাত দিনের ‘ভারতীয় ভাষা ক্যাম্প’ বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্ত হল। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, জাতীয় সংহতি গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোমা বাগচী জানান, গত ২৫ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলা এই ভাষা ক্যাম্পে মূলত দুটি ভাষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়—রাষ্ট্রীয় ভাষা হিন্দি এবং সাঁওতালি ভাষা।

 

তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সময়ে মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্যান্য ভারতীয় ভাষার জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে ছাত্রীদের যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে এবং বহুভাষিক পরিবেশে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ভাষা শেখা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং বিভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারাকে জানারও এক গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এই সাত দিনের ক্যাম্পে ছাত্রীরা হিন্দি ও সাঁওতালি ভাষার প্রাথমিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভাষার মাধ্যমে দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি সম্পর্কেও ধারণা লাভ করেছে।জানা গিয়েছে, এই অঞ্চলে ছাত্রছাত্রীদের মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্য ভারতীয় ভাষা শেখানোর উদ্দেশ্যে এমন উদ্যোগ এই প্রথম। ফলে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা অত্যন্ত উৎসাহ ও আগ্রহের সঙ্গে প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন দলগত কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোচনা ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ক্যাম্পটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও শিক্ষণীয়।শুধু ভাষা শিক্ষা নয়, ক্যাম্প চলাকালীন বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি স্বাস্থ্য শিবিরেরও আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়।ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ছাত্রীকে পুরস্কার ও শংসাপত্র প্রদান করা হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই অভিনব উদ্যোগে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং জাতীয় সংহতি ও বহুভাষিক সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করবে।এর পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্যশিবির ও অনুষ্ঠিত হয়