“‘বাদরামি চললে আমরাও ছেড়ে কথা বলব না’— চোপড়ার সভা থেকে বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি বিধায়ক হামিদুর রহমানের”
দেবব্রত চক্রবর্তী ইসলামপুর -উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ায় এক রাজনৈতিক সভা থেকে শাসক পরিবর্তনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন হামিদুর রহমান। সভামঞ্চ থেকে তিনি রাজ্যে ক্ষমতায় আসা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হামিদুর রহমান অভিযোগ করেন, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি, হকার উচ্ছেদ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সামাজিক-ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপের মতো নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কিছু এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন বা সরকারি যাচাই এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সামনে আসেনি।চোপড়ার বিধায়ক আরও অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনিক প্রভাবকে ব্যবহার করে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কিছু এলাকায় বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে অশান্তি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি বা সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।”তবে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি এটাও বলেন যে বর্তমানে “ডাবল ইঞ্জিন সরকার” থাকায় উন্নয়নমূলক কাজের প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের স্বার্থে ইতিবাচক কাজ হলে বিরোধিতা না করে সহযোগিতাও করা হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের অসুবিধা বাড়ে বা রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ বাড়তে থাকলে আন্দোলনের পথে নামার ইঙ্গিত দেন তিনি।চোপড়ার সভায় এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও কি চোপড়ার রাজনীতিতে পুরনো সংঘাত ও উত্তেজনার আবহ বজায় রয়েছে? আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি বিরোধী রাজনীতির চাপের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশল। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল চোপড়া অঞ্চলে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
![]()
