প্রার্থী বাছাইয়ে দলবদলুদের ছাঁটাই? উত্তরবঙ্গের ৬–৯ আসনে নজর, কালিয়াগঞ্জেও জোর জল্পনা

তন্ময় চক্রবর্তী :– আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই নিয়ে এখন থেকেই তৎপর হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক দলগুলি। বিশেষ করে বারবার দলবদল করা নেতাদের বিষয়ে এবার কড়া অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন দলের অন্দরমহল থেকে। ফলে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।রাজনৈতিক সূত্রে খবর, একসময় গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে বিজেপির দখলে ছিল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধানসভা আসন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলবদল ও রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে সেই সংখ্যা কমে এসেছে।

বর্তমানে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ায় প্রার্থী বাছাই নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু করেছে দলগুলি।রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক নেতাই বিভিন্ন কারণে দল পরিবর্তন করেছেন। এতে দলীয় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বা অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই এবারের নির্বাচনে দলবদল করা নেতাদের ক্ষেত্রে দলগুলি সতর্ক অবস্থান নিতে পারে। এমনকি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে নতুন মুখ বা সংগঠনের পুরনো কর্মীদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলার সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে। কোচবিহার দক্ষিণ, মাথাভাঙ্গা, নাটাবাড়ি, ধূপগুড়ি, আলিপুরদুয়ার সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক আসনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে প্রার্থী তালিকা।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এবার সংগঠনের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের প্রতি নিষ্ঠাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

 

ফলে যেসব নেতার বিরুদ্ধে বারবার দলবদলের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার আগেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেছে জোর জল্পনা। রাজনৈতিক দলগুলির কৌশল এবং প্রার্থী নির্বাচনই আগামী নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।উত্তরবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হতে শুরু করেছে।বিশেষ করে যেসব নেতাদের বিরুদ্ধে বারবার দলবদলের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের নিয়ে দলের অন্দরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার প্রার্থী তালিকা তৈরির সময় এমন নেতাদের অনেকটাই ছাঁটাই করা হতে পারে। ফলে উত্তরবঙ্গের প্রায় ৬ থেকে ৯টি আসনে নতুন মুখ বা বিকল্প প্রার্থীর সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরেও শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন সৌমেন রায়। যদিও তাঁর বাড়ি আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায়। নির্বাচনে জয়ের পর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। পরে আবার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে তিনি পুনরায় বিজেপিতে ফিরে আসেন।সৌমেন রায়ের এই বারবার দলবদলকে ঘিরে কালিয়াগঞ্জের বিজেপি কর্মীদের একাংশের মধ্যে তখন থেকেই অভিমান ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের অনেকেই মনে করেন, এই ঘটনায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি পরবর্তী সময়ে দলের বেশ কিছু বড় কর্মসূচি ও আন্দোলনে বিধায়ককে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।এই প্রেক্ষাপটে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তাহলে কি এবার কালিয়াগঞ্জ থেকে সৌমেন রায়কে আবার প্রার্থী করা হবে?নাকি স্থানীয় কর্মীদের চাপ ও সাংগঠনিক সমীকরণ বিবেচনা করে বিজেপি নতুন কোনও মুখের উপর ভরসা করতে পারে?রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কালিয়াগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই এই আসনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ নিতে পারে। যদি দলবদল ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে কালিয়াগঞ্জেও প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও এই আসন পুনর্দখলের লক্ষ্য নিয়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে কালিয়াগঞ্জে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।সব মিলিয়ে প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার আগে পর্যন্ত কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনীতিতে জল্পনা, কৌশল ও সমীকরণের লড়াই যে চলতেই থাকবে, তা বলাই যায়।