নবান্নে উত্তর দিনাজপুর উন্নয়ন বৈঠক: ডবল ইঞ্জিনে উন্নয়নের মহাযাত্রার সূচনা! শুভেন্দু–মিঠুন–সাংসদ–বিধায়কদের ঐতিহাসিক বৈঠকে আশার আলো দেখছেন জেলার মানুষ
তন্ময় চক্রবর্তী উত্তর দিনাজপুর জেলার উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে এবার এক মঞ্চে জেলার সাংসদ, বিধায়ক, মন্ত্রী, রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা এবং জাতীয় স্তরের নেতৃত্ব। শনিবার নবান্নের ১৪ তলায় অনুষ্ঠিত হল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক, যা ইতিমধ্যেই জেলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari এবং মুখ্য সচিব Manoj Agarwal।

উত্তর দিনাজপুর জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিকাঠামো নির্মাণ, জনপরিষেবা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।এই বৈঠকে জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল মহারাজ,, রায়গঞ্জের বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, করণদিঘির বিধায়ক তথা মন্ত্রী বিরাজ বিশ্বাস, হেমতাবাদের বিধায়ক হরিপদ বর্মন। এবং রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পাল।তবে এদিনের বৈঠককে আরও বিশেষ মাত্রা দেয় বিশিষ্ট অভিনেতা ও জননেতা Mithun Chakraborty-র উপস্থিতি।
তাঁর উপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক মহলেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও আশাবাদের সঞ্চার করেছে।জেলার বিভিন্ন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর দিনাজপুরকে রাজ্যের অন্যতম পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে দেখা হতো।
শিল্প, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান ও নগরোন্নয়নের ক্ষেত্রে জেলার বহু দাবি বছরের পর বছর অপূর্ণ ছিল। ফলে উন্নয়নের নিরিখে অন্যান্য জেলার তুলনায় উত্তর দিনাজপুর অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এবার কোমর বেঁধে নেমেছেন জেলার জনপ্রতিনিধিরা।
সাংসদ থেকে বিধায়ক—সকলেই নিজ নিজ এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং দ্রুত সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন। সূত্রের খবর, জেলার রাস্তা, সেতু, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পানীয় জল, কৃষি ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একাধিক বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।বৈঠকে জেলার উন্নয়নের প্রশ্নে সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের ভূমিকা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
জেলার প্রতিটি বিধানসভা এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তিনি সকল বিধায়কের পাশে থাকার আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও উঠে আসে আলোচনায়।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জেলার উন্নয়নের স্বার্থে সাংসদ ও বিধায়কদের এই সমন্বিত উদ্যোগ আগামী দিনে উত্তর দিনাজপুরের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।এই বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশাবাদের সুর শোনা যাচ্ছে।
কালিয়াগঞ্জের এক ব্যবসায়ী বলেন,“বহু বছর ধরে উন্নয়নের অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি। এবার যদি সত্যিই সবাই একসঙ্গে কাজ করেন, তাহলে জেলার চেহারা বদলাতে সময় লাগবে না।“রায়গঞ্জের এক কলেজ পড়ুয়ার বক্তব্য,“কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি।
নবান্নের এই বৈঠক যদি বাস্তব উন্নয়নের পথ খুলে দেয়, তাহলে যুব সমাজ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।“করণদিঘির এক কৃষক জানান,“রাস্তা, সেচ এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে কৃষকরাও লাভবান হবেন।
আমরা চাই এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়িত হোক।“হেমতাবাদের এক গৃহবধূর কথায়,“স্বাস্থ্য পরিষেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে।
তাই আমরা খুবই আশাবাদী।“রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নবান্নের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক বৈঠক নয়, বরং উত্তর দিনাজপুরের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
জেলার সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের একত্রে নিয়ে উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।এখন দেখার বিষয়, বৈঠকে আলোচিত পরিকল্পনাগুলি কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায়। তবে এটুকু স্পষ্ট, উত্তর দিনাজপুরের উন্নয়নকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন জেলার মানুষ। নবান্নের ১৪ তলায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক যেন জেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনার বার্তা দিয়েছে।

