তাঁতির ঘরের ছেলে শান্তিপুরের সামন্ত হাজরার ছেলেবেলার শখের বসে গড়া প্রতিমা এখন পাড়ি দেশ-বিদেশে

ছেলেবেলার মায়ের মাখা আটা দিয়ে জীবজন্তু গড়া কাকির ঘরের ছেলে এখন মস্ত বড় শিল্পী। সামাজিক মাধ্যমে ভর করে জেলা রাজ্য ছাড়িয়ে তার তৈরি মিনিয়েচার পাড়ি দিচ্ছে দেশে-বিদেশে। তাঁত বোনার মতন সারাদিন হাড় ভাঙ্গা খাটুনি র মাঝেই কিছুটা ফুরসৎ আর তাই দিয়েই উমার গমন দেশে-বিদেশে তবে শান্তিপুরের বিশেষ ঘটনার প্রতিমা তার হাতে প্রসার ঘটেছে আরও অনেক বেশি।নদীয়ার শান্তিপুর সুত্রাগড়ের তামলিপাড়ার বাসিন্দা ২৭ বছরের সামন্ত হাজরা বাবাকে হারিয়েছে প্রায় ১২ বছর আগে অসুস্থ মা এবং ভাই কে নিয়ে সংসারের যাবতীয় দায়ভার একাই বহন করে চলেছে।

 

বাড়িতে রয়েছে দুটি পাওয়ার লুম, সেখান থেকেই সংসারের কিছুটা আয় হয়। তবে ছোটবেলা থেকেই শিল্পের প্রতি গভীর টান তাঁকে নিয়ে এসেছে এক অনন্য জগতে। শখের বসে শুরু হলেও এখন মিনিয়েচার মূর্তি তৈরিই তাঁর পেশা এবং পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু।সম্পূর্ণ হাতে তৈরি করা হয় এই মূর্তিগুলি। কোনো ছাঁচ ব্যবহার করে না সে। কেবলমাত্র সলিড মাটির উপর নির্ভর করে সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলে। প্রতিটি মূর্তি তৈরিতে সময় লাগে অনেকটা, কারণ সম্পূর্ণ মূর্তিটি ধৈর্য ধরে নিখুঁতভাবে গড়ে তুলতে হয়। সেই কারণেই দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হলেও বড় মূর্তির থেকে তা অনেকটাই কম, জানিয়েছেন শিল্পী। এবছর সে যেই দুর্গা মূর্তি তৈরি করছে সেটি যাচ্ছে চন্দননগরে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে সেই সূক্ষ্ম কাজ।সামন্তের তৈরি মূর্তির চাহিদা শুধুমাত্র রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইতিমধ্যেই তাঁর তৈরি একাধিক মূর্তি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে গেছে। কলকাতা, দুর্গাপুর থেকে শুরু করে দেশের নানা প্রান্তে তাঁর শিল্পকর্ম সাদরে গ্রহণ করেছে মানুষ। শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও পাড়ি দিয়েছে তাঁর প্রতিভার ছাপ। সম্প্রতি একটি লক্ষ্মী মূর্তি আমেরিকায় পৌঁছেছে। আর এবছরের দুর্গাপুজোতে দুবাইতে পূজিত হবে সামন্তের হাতে তৈরি এক দুর্গা পরিবার। মা দুর্গার পাশাপাশি তাঁর সন্তানরাও রয়েছে সেই মূর্তিতে।অর্ডার অনুযায়ী যেকোনো দেবদেবীর মূর্তি তৈরি করে দেয় সে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সূক্ষ্ম কাজ করে তৈরি হয় প্রতিটি শিল্পকর্ম। পাশাপাশি সঠিক ঠিকানায় পাঠানোর দায়িত্বও নেন তিনি নিজেই। তবে পরিবহণের জন্য আলাদা চার্জ ধার্য থাকে।সংসারের চাপ, আর্থিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও সামন্ত হাজরার একাগ্রতা ও নিষ্ঠা তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। মাটির ছোট ছোট টুকরোয় গড়ে ওঠা দেবদেবীর রূপ শুধু শিল্প নয়, এক নিবিড় সাধনা। শান্তিপুরের এই তরুণ শিল্পী আজ প্রমাণ করেছেন, সীমিত সম্পদেও অধ্যবসায় ও প্রতিভার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়া যায় বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে।গর্ভধারিনী মা অবশ্য ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকটাই আশাবাদী জানালেন মা দুর্গা সহায় হলে ও আরো বড় শিল্পী হবে। ছোটবেলা থেকে শিল্পের প্রতি ঝোঁক আমরা অভিভাবক হিসেবে কখনো সে বিষয়ে পড়াশোনা করাতে পারিনি তবে প্রচন্ড আগ্রহে ও নিশ্চয়ই ওর প্রতিভা বিকশিত করতে পারবে।