“ডাবল ইঞ্জিনে গতি, ৬ মাসেই নাগর খাল কাজ শুরুর প্রতিশ্রুতি হরিপদ বর্মনের”
তপন চক্রবর্তী কালিয়াগঞ্জ,১এপ্রিল: ভোট আসে ভোট যায় কিন্তু কথা কেও রাখে না।আবার এ রাজ্যের বিধান সভা ভোট আগামী ২৩ ও ২৯ শে এপ্রিল দুই দফায় হতে চলেছে।ফলস্বরূপ নির্বাচনী মাঠে নেমে যে যা পারছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে। হেম টাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালে তৃণমূল প্রার্থী সত্যজিৎ বর্মন কথা দিয়েছিলেন তিনি জিতলে হেমতাবাদে একটি কলেজ এবং কৃষকদের জমিতে জলের ব্যাবস্থা করবেন তিস্তা প্রজেক্টের মাধ্যমে।কিন্তু প্রতিশ্রুতির একটিও পালন করতে ব্যার্থ হয়েছেন মন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মন।
কিন্তু এবার বিজেপি প্রার্থী হরিপদ বর্মন হেমতাবাদের প্রার্থী হয়েই এলাকার মানুষদের বড়সড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন এবার হেমতাবাদে ডাবল ইঞ্জিনের প্রার্থী আমি হরিপদ বর্মন শুধু প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছিনা এবার জয়ী হয়ে এসে শুধু এই এলাকা নয় পার্শ্ববর্তী করণদীঘি , চাকুলিয়া প্রভৃতি এলাকার আনুমানিক দুই লক্ষ কৃষকদের জমিতে জল সেচের ব্যাবস্থা করে কৃষকরা যাতে তাদের জমিকে তিন ফসলি জমিতে পরিণত করতে পারে তার প্রতিশ্রুতি তিনি দিলেন।বুধবার তিনি নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নির্বাচক মণ্ডলীদের এই আস্বাস দেন।উত্তর দিনাজপুর জেলার ভারত_ বাংলাদেশ সীমান্তে হেম তাবাদের ভাটোলে ভারত_ বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া নাগর নদীর উপর দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি দিন ধরে আটটি কংক্রিটের পিলার রাজ্য সরকারের খামখেয়ালিপনার স্বাক্ষী হিসাবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেও আজ পর্যন্ত সেই নাগর নদীর উপর প্রধান খালের সেতু নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকায় উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘি হেমতাবাদ, চাকুলিয়া প্রভৃতি এলাকায় আনুমানিক ২ লক্ষ কৃষক তারা তাদের জমিতে সেচের জল থেকে বঞ্চিত।প্যাম্পসেট ভাড়া করে চাষীরা তাদের জমিতে চাষাবাদ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় ১৯৯৭ সালের জানুয়ারী মাসে বামফ্রন্টের আমলের সেচ মন্ত্রী দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নাগর নদীর উপর তিস্তা ব্যারেজ প্রজেক্টের ডাউক নাগর প্রধান খালের উপর একুইডাক্ট নির্মাণের জন্য শিলান্যাস করলে কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা ব্যারেজ প্রজেক্টের প্রধান খালের উপর আকুইডাক্ট নির্মাণের জন্য আটটি কংক্রিটের পিলার নির্মাণ করা হয়। ভাটোল সহ করণদীঘি, হেমতাবাদ, চাকুলিয়ার আনুমানিক দুই লক্ষাধিক কৃষকরা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল তাদের যে কৃষিজমি সেচের অভাবে তিন ফসলি চার ফসলি ফসল করতে পারছিলনা তারা এবার তিস্তা ব্যারেজের প্রজেক্টের কাজ শেষ হলে তাদের কৃষি জমিতে তিন ফসলি,চার ফসলি ফসল করে তাদের জীবনজীবিকার মানউন্নয়ন ঘটাতে পারবেন।কিন্তু তাদের সব আশা নিরাশায় পরিণত করেছে রাজ্যের মা মাটি সরকার।দীর্ঘ ২৭ বছরেও তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি বর্তমান রাজ্য সরকার।আজ ভাটো লের নাগর নদীর উপর বানানো ৮ টি কংক্রিটের পিলার যেন কঙ্কালসার পরিকাঠামো তথা রাজ্য সরকারের কাজ না করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিস্তা দপ্তর সূত্রে জানা যায় রাজ্যের প্রাক্তন প্রয়াত মন্ত্রী দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৯৯৭ সালে শিলান্যাস করার তিন মাসের মধ্যে ৪০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুর ৮ টি পিলারের নির্মাণ তৈরি করেছিল।যার জন্য ব্যয় হয়েছিল ২৪ কোটি টাকা। জানা গেছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মাঝপথে মুখথুবড়ে পরে আছে দুই যুগের উপর এই ৩০০ কোটি টাকার এই গুরুত্বপুর্ন মেগা প্রজেক্ট।তবে আশার কথা হেমতাবাদ বিধান সভার বিজেপি প্রার্থী হরিপদ বর্মন অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে এলাকার মানুষদের মধ্যে প্রচার করে চলছে এই রাজ্যে এবার বিজেপি সরকার আসছেই। তাই ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের মাধ্যমে তিনি তিস্তা ব্যারেজ প্রজেক্টের ভাটোলের ডাউক_নাগর বন্ধ থাকা কাজ পুনরায় শুরু করে দুই লক্ষাধিক কৃষকের মুখে হাঁসি ফোটাবেন বলেই তার দৃঢ় বিশ্বাস।যদিও তৃণমূল প্রার্থী সত্যজিৎ বর্মনের দাবি তিস্তা প্রজেক্টের কোন ভবিষ্যত নেই।কংগ্রেস প্রার্থী অনামিকা রায় হরিপদ বর্মনের কথায় সায় দিয়ে বলেছেন চেষ্টা করলে সবকিছুই সম্ভব।তৃণমূল বিধায়ক সম্পর্কে কংগ্রেস প্রার্থী অনামিকা রায় সত্যজিৎ বর্মন সম্পর্কে বলেন উনিতো শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হয়েও হেমতাবাদে একটি কলেজ যিনি করতে পারেন না তিনার মুখে কোন কথাই মানায় না।


