জাতীয় ফুল পদ্মের সাজে ৭৬তম বর্ষে শেঠ কলোনির ঐক্য সম্মিলনী, পুজোর মণ্ডপে ঐতিহ্যের সঙ্গে শান্তির বার্তা
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ৮ অক্টোবর: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব। আর সেই দুর্গোৎসবকে ঘিরে উত্তর দিনাজপুরের শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র এখন সাজ সাজ রব।
পুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা নির্মাণ ও আলোকসজ্জার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

তারই মধ্যে কালিয়াগঞ্জ শহরের অন্যতম বড় বাজেটের দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম শেঠ কলোনি ঐক্য সম্মিলনীর দুর্গাপুজো এবারও দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে প্রস্তুত।এবার শেঠ কলোনি ঐক্য সম্মিলনীর দুর্গাপুজো পা দিচ্ছে ৭৬তম বর্ষে।

দীর্ঘ বছরের ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়েই এবারের পুজোয় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উঠে আসছে ভারতের জাতীয় ফুল পদ্ম। পদ্মকে কেন্দ্র করে মণ্ডপসজ্জার ভাবনায় ইতিমধ্যেই শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে।
মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে সূক্ষ্ম কারুকাজ ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি পদ্মের নান্দনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে এক অভিনব পরিবেশ তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।কালিয়াগঞ্জের শেঠ কলোনির এই পুজো দীর্ঘদিন ধরেই শহরবাসীর কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র। পুজোর দিনগুলিতে শুধু কালিয়াগঞ্জ নয়, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বহু মানুষ এই পুজো দেখতে ভিড় করেন। ফলে প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের প্রত্যাশা থাকে বেশি। সেই প্রত্যাশাকে মাথায় রেখেই এবারও মণ্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে প্রতিমা ও আলোকসজ্জায় বিশেষ চমক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পুজো উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।স্থানীয়দের অনেকের কাছেই এই পুজো আরও একটি কারণে বিশেষ পরিচিত। রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা কালিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র কার্তিক পাল-এর সঙ্গে শেঠ কলোনির এই পুজোর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে এটি অনেক সময় ‘কার্তিক পালের পুজো’ হিসেবেও পরিচিত। তবে পুজো কমিটির পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাকেই এই পুজোর মূল শক্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।শেঠ কলোনি ঐক্য সম্মিলনী দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক স্বপন সাহা জানান, এবছর তাঁদের পুজো ৭৬তম বর্ষে পদার্পণ করছে। দীর্ঘ ৭৫ বছরের পথ অতিক্রম করে ৭৬তম বর্ষে এসে ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।স্বপন সাহা বলেন, প্রতি বছরই তাঁদের পুজোকে ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ থাকে। এবছরও উত্তর দিনাজপুর জেলার মানুষের কাছে এই পুজো বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে তাঁরা আশাবাদী। ইতিমধ্যেই মণ্ডপসজ্জার কাজ প্রায় শেষের পথে। মায়ের মন্দির প্রাঙ্গণে চলছে শেষ মুহূর্তের সূক্ষ্ম কারুকাজ ও সাজসজ্জার কাজ। কর্মীদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।পুজো উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, এবারের ভাবনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পদ্ম। ভারতের জাতীয় ফুল পদ্মকে কেন্দ্র করে মণ্ডপের নকশা ও সাজসজ্জায় এক বিশেষ আবহ তৈরি করা হচ্ছে। পদ্ম যেমন সৌন্দর্য ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত, তেমনই তার সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও গভীর যোগ রয়েছে। সেই ভাবনাকেই দুর্গোৎসবের সঙ্গে মিলিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।শুধু চোখধাঁধানো মণ্ডপ নয়, পুজোর কয়েকটি দিন যাতে এলাকার মানুষ শান্তি ও শৃঙ্খলার পরিবেশে উৎসব উপভোগ করতে পারেন, সেই বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পুজো কমিটি। উদ্যোক্তাদের আশা, উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সম্প্রীতি, শান্তি ও সৌহার্দ্যের বার্তাও ছড়িয়ে পড়বে গোটা এলাকায়।৬তম বর্ষের এই পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শেঠ কলোনি এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পুজো কমিটির সদস্যরা। এখন অপেক্ষা শুধু ঢাকের বাদ্যি, কাশফুলের দোলা আর মহালয়ার আবহ পেরিয়ে দেবীর বোধনের। তারপরই পদ্মের সাজে সেজে ওঠা শেঠ কলোনির মণ্ডপে শুরু হবে মা দুর্গার আরাধনা।
