ছাব্বিশের রাজনৈতিক যুদ্ধে বাংলায় কি এবার গেরুয়া ঝড় নাকি জনমোহিনী প্রকল্পের জয়
তপন চক্রবর্তী,কালিয়াগঞ্জ ২৬ মার্চ: ২০১১ সালে সেই জগদ্দল পাথর নামক ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে বিরোধী দল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উৎখাত করতে সমর্থ হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মা মাটি মানুষের সরকার এই রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়।এরাজ্যের মানুষ বুকভরা আশা নিয়ে অগ্নিকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা করেছিল দুই হাত ভরে আশীর্বাদ দিয়ে।
তিনি কিছুদিন সঠিক ভাবে রাজধর্ম পালন করলেও তা বেশিদিন রক্ষা করতে পারেন নি অগ্নিকন্যা। শুধু তাই নয় তার নামের পূর্বে প্রথম প্রথম অগ্নিকন্যা বা শততার প্রতীক বলে বিশেষণ ব্যবহার করা হলেও বর্তানে সেসব আর দেখা যায়না । পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে,কিন্তু অবশিষ্ট চার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হলেও সারা দেশের মানুষের নজর শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের দিকে।মনে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গেই বোধহয় শুধু মাত্র নির্বাচন হচ্ছে।২০২১ সালের বিধান সভা নির্বাচননে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন ভাবে আট দফায় নির্বাচন সম্পন্ন করলেও এবারের নির্বাচন পর্ব মাত্র দুই দফায় নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে।২০২১ সালে আট দিন ধরে নির্বাচন হয়েছিল।মানুষ অধৈর্য হয়ে পড়েছিল।যদিও রাজনৈতিক দলগুলি অপর্যাপ্ত সময় পেয়েছিল ভোটের প্রচারের জন্য।সেইদিক দিয়ে বলা যেতে পারে এবার ভোটের প্রচারের সময় তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। যদিও গেরুয়া শিবিরের প্রচারের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হবার কারণ নেই।কেননা গেরুয়া শিবিরের হাতে সর্বভারতীয় নেতার সংখ্যা অনেক থাকায় নেই কোন অসুবিধা যে অসুবিধা বলা যেতে পারে শাসক দলের ক্ষেত্রে আছে। নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণাতেই কার্যত রাজ্যের শাসক দলের যাবতীয় রাজনৈতিক সমীকরনের পরিবর্তন ঘটে যায়।
নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে এবার তৃণমূল অনেকটাই ব্যাকফুটে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছেন।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা শাসক দলের তুরুপের তাস লক্ষ্মীর ভান্ডার,কন্যাশ্রী,সবুজসাথীরসাথে এবার বেকার যুবকদের ১৫০০ টাকা প্রতিমাসে ভাতা সহ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সামাজিক প্রকল্প। অতি সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে যাবে।কিন্তু নবান্নের অতি সক্রিয়তা একেবারেই অন্য কথা বলছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন আদর্শ বিধি লাগু হবার পূর্ব মুহূর্তে কি এমন ঘটনা তৃণমূল সুপ্রিমোকে বিচলিত করে তুললো যে তড়িঘড়ি রাজ্যাসরকারী কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফসল ডি এ নিমেষের মধ্যেই অতি সক্রিয় হয়ে দিয়ে দেবার কথা ঘোষণা করে দিলেন?অথচ তৃণমূল সুপ্রিমো সুপ্রিম নির্দেশকে না মেনে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেবার জন্য সেই সুপ্রিম কোর্টের কাছেই আবেদন করেছিলেন।এখানেই শেষ নয় সেই ডিএ ঘোষণার সাথে সাথেই মোয়াজ্জেম এবং পুরোহিতদের জন্য অতিরিক্ত .৫০০ টাকা করে ভাতা ঘোষণা করা হল।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে যদি সামাজিক প্রকল্পগুলির উপর তৃণমূল নেতৃত্বের আস্থা থাকতো তাহলে একেবারে আচমকাই কর্মচারীদের ডি এর সাথে মোয়াজ্জেম ও পুরোহিতদের শেষ বেলায় মন পেতে এই পদক্ষেপ নিতে হল কেন তৃণমূল সুপ্রিমোকে? লাখ টাকার প্রশ্ন এখানেই ।বিশ্লেষকদের ওসন্দেবারউপর ভর করে অতি সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস ঘাসফুলের। কিন্তু এবার সত্যিই কি শাসক দল অন্যবারের মত ভোট যুদ্ধে জয়ী হবার ক্ষেত্রে নিশ্চিন্ত উত্তর না।

কেননা শাসক দল তথা তৃণমূলের নেত্রী একদিকে যেমন এস আই আর নামক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্ত অবৈধ ভোটার দের দিয়ে ভোট করানো হত তারা এবার আর ভোট যুদ্ধে অংশ গ্রহন করতে পারছেন না।তাদের এক কথায় ঝেঁটিয়ে বিদায়ের ব্যাবস্থা এখনো করে চলেছেন ভারতের নির্বাচন কমিশন।নির্বাচন কমিশন এবার পশ্চিমবঙ্গের ভোটার লিস্ট থেকে এখন পর্যন্ত যা খবর পাওয়া গেছে তাতে প্রায় ৮৮ লক্ষ্য অবৈধ ভোটার বাদ যেতে চলেছে। যেসমস্ত ভোট গুলি শাসক দলের পক্ষেই এতদিন নানাভাবে ভোট বাক্সে ঢুকে পড়ত। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের প্রচন্ড করা মনোভাবের কারনে এবং করা পদক্ষেপ নেবার কারনে এবার আর সেই অবৈধ নামক ভোটাররা আর এবার ভোট বাক্সে ঢোকার ছাড়পত্র আর পাচ্ছেনা। মনেকরিয়ে দিচ্ছে সেই নির্বাচন কমিশন টি এন সেশনের নাম যিনি ভারতবর্ষের সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন এবং ভারতে নির্বাচন কমিশন বলে যে একটি দপ্তর আছে সেটি সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষদের প্রথম তার কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।ঠিক একই রকমভাবে এবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন বলে একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান আছে যে প্রতিষ্ঠান ইচ্ছে করলেই স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচন সাধারন মানুষদের উপহার দিতেই পারে। শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছা। তবে এস আই আর এর ঘটনা শাসক দলকে যে বেগ দিচ্ছে সেটা নিশ্চিত ভাবেই বোঝা যাচ্ছে তৃণমূল দলের সুপ্রিমোর বক্তব্যে।তৃণমূল সুপ্রিমো দীর্ঘদিনের পোর খাওয়া একজন নেত্রী।যিনি ভোট যেমন করিয়ে নিতে পারে তেমনি তার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বুঝতেও পারেন এবারের ভোটটা যেন আরসব ভোটের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হতে যাচ্ছে,নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই যেন পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির ততই পরিবর্তন ঘটছে। যতদিন ওশাসক দলের এতদিন শাসক দলের পক্ষে বৈতরণী হঠাৎ করে কি এমন নবান্নে ঘটে গেল যে রাজ্যসরকারী কর্মীদের জন্য ডি এ দেবার ঘোষণার সাথে সাথে পুরোহিত ও মোয়াজ্জেমের ৫০০ টাকা করে ভাতা ঘোষণা করা হল?রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ বর্তমানে দেওয়া সম্ভব নয়।তার জন্য সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নেবার জন্য আবেদন করা হয়েছিল।কিন্তু তড়িঘড়ি করে পুনরায় সরকারী কর্মীদের ডিএ ঘোষণা করা ছাড়াও মোয়াজ্জেম ও পুরোহিতদের ভাতা বৃদ্ধি করায় রাজ্যের মানুষ বলছে মেঘ না চাইতেই জল একি ঘটনা ঘটিয়ে দিল তৃণমূল সুপ্রিমো?আকারে ইঙ্গিতে তাহলে কি গেরুয়া শিবিরকে একরকম ওয়াকভার দিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো? এই রাজ্যের মানুষদের মধ্যে একটা ধারনা জন্মেছে যে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। আসলে এস আই আর এর সাথে সাথে নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভা নির্বাচন ভয়মুক্ত স্বচ্ছ নির্বাচন করতে যা যা সরকারি নিয়ম আছে তার সবটাই প্রয়োগ করবার যে প্রস্তুতি নিচ্ছে সেটা এক কথায় অভাবনীয়। শুধু তাই নয় কমিশন যে ভাবে রাজ্য সরকারের সাজানো বাগানকে ভেঙ্গে তছনছ করে নিজের মত করে নির্বাচন উপযোগী করে সাজিয়ে তুলছেন তাতে করে তৃণমূল সুপ্রিমোকে কোন ভাবেই বুঝতে অসুবিধা হচ্ছেনা এবারের নির্বাচন আরসব বিধান সভা নির্বাচন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অনেককেই বলতে শোনা যাচ্ছে ২০২১ সালে বিজেপির স্বপ্নভঙ্গ হলেও বিজেপি রায়গঞ্জের সাংসদ সেটা মানতে রাজি নয়।সাংসদ কার্তিক পাল বলেন ৩ থেকে ৭৭ জন বিধায়ক পাওয়া খুবই কি সহজ ব্যাপার ? তিনি বলেন ২১ সালে আমরা শুধুমাত্র ট্রেইলার দেখিয়ে ছিলাম। এবার আসল খেলা দেখাবেগেরুয়া শিবির।একদিকে মা মাটি মানুষের জনমোহিনী সামাজিক প্রকল্পের সাথে সরকারি কর্মীদের মন জয় করার হাতিয়ার ডি এ অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদীর গ্যারান্টির সাথে হাজারো প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া কে শেষ হাসি হাসবে আগামী ৪ মে ই ভি এম খুললেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
