চোপড়ায় বরফ কারখানার গুদামে আচমকা অগ্নিকাণ্ড, স্থানীয়দের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো গেল
চোপড়া, ৫ সেপ্টেম্বর: শনিবার দুপুরে চোপড়া থানার কালাগছ এলাকায় একটি বরফ কারখানার গুদামঘরে আচমকা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

মুহূর্তের মধ্যে গুদামঘর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বেরিয়ে সমগ্র এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে আচমকাই ওই বরফ কারখানার গুদামঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই গুদামের ভিতর থেকে আগুনের শিখা দেখা দিতে শুরু করে। বিষয়টি নজরে আসতেই এলাকায় হইচই পড়ে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।তবে পরিস্থিতি বুঝে দমকলের জন্য অপেক্ষা না করে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা বিভিন্নভাবে জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। একদিকে আগুন নেভানোর চেষ্টা, অন্যদিকে দমকল ও পুলিশকে খবর দেওয়া—দুই দিকেই দ্রুত তৎপরতা দেখান এলাকার মানুষ।ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চোপড়া থানার পুলিশ। পুলিশ এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ইসলামপুর থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে দমকলকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এরপর দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি গুদামের বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখেন, যাতে ফের আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা না থাকে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুন লাগার পর প্রথম দিকে গুদামঘর থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপরই আগুনের শিখা বাড়তে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশে দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, কীভাবে বরফ কারখানার গুদামে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও দমকল বিভাগ।অগ্নিকাণ্ডে গুদামের ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর গুদামের ভিতরে থাকা সামগ্রী ও পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছুক্ষণ উত্তেজনা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বড়সড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
