চোপড়ায় তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান, মোহিত সেনগুপ্তর দাবি—“জেলার রাজনীতিতে আসছে বড় পরিবর্তন”

উত্তর দিনাজপুর জেলার ২৮ নম্বর চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত মিলল বুধবার। এদিন তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পঞ্চায়েত সদস্য সহ কয়েকশো নেতা-কর্মী জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা তলে যোগদান করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে অনুষ্ঠানটি কার্যত জনসমাবেশের রূপ নেয়।এদিন মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, “চোপড়া থেকেই পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মানুষ আর তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর ভরসা রাখতে পারছে না। পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীরা আজ দলে দলে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে মানুষের আস্থা কোথায় যাচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, “এটা শুধু শুরু। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ কংগ্রেসে যোগদান করবেন। জেলা কংগ্রেস অফিসে কার্যত জনপ্লাবন দেখা যাবে। আমরা সংগঠনকে শক্তিশালী করে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জোরদার লড়াই দেব।”তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতাকর্মীরাও জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় অবহেলা ও স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের কারণেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তারা নতুন করে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের দলবদল চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্রের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে তৃণমূলের ঘাঁটিতে ভাঙন, অন্যদিকে কংগ্রেসের সংগঠন শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে চোপড়ার রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।এখন দেখার, এই যোগদান কতটা প্রভাব ফেলে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে।