গেরুয়া বসন ছেড়ে রাজনীতির ময়দানে স্বামীজি! কালিয়াগঞ্জে বিজেপি প্রার্থী নিয়ে কর্মীদের ক্ষোভ না কি উল্লাস?

তন্ময় চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ: রাজনীতির আঙিনায় কোনোদিন যাঁর হাতে দলীয় পতাকা দেখা যায়নি, যাঁর পরিচয় ছিল আধ্যাত্মিকতা আর জনসেবা— সেই মানুষটিই এখন গেরুয়া শিবিরের তুরুপের তাস। কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে কুনর ভারত সেবাশ্রম সংঘের উৎপল মহারাজের নাম ঘোষণা হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা রাজনীতিতে।

কিন্তু এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দলের অন্দরে বইছে মিশ্র হাওয়া।​ত্যাগের প্রতীক থেকে ভোটের লড়াইয়ে ? স্বামীজি মানেই ত্যাগের প্রতীক। ভারত সেবাশ্রম সংঘের আদর্শে দীক্ষিত উৎপল মহারাজ দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের সেবা এবং আধ্যাত্মিক প্রচারে মগ্ন ছিলেন। তাঁর অগণিত ভক্ত ও শিষ্য ছড়িয়ে রয়েছে জেলাজুড়ে। কিন্তু হঠাৎ কী এমন ঘটল যে, মঠের শান্তি ছেড়ে তাঁকে নির্বাচনী লড়াইয়ের ময়দানে নামতে হলো? এই প্রশ্নই এখন কালিয়াগঞ্জের চায়ের দোকানের আড্ডার প্রধান বিষয়। অনেকের মতে, স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে বৈতরণী পার হতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু সন্ন্যাস জীবনের গৈরিক বসন ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতির ‘রং’ গায়ে লাগানোকে সহজভাবে নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষের একাংশ।​কর্মীদের একাংশের মনে ক্ষোভের আগুন​দলীয় প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কালিয়াগঞ্জের আদি বিজেপি কর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন দীর্ঘদিনের লড়াকু কর্মী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন:​”আমরা যারা রোদে পুড়ে, ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর বুথ স্তরে দলটা করছি, তাদের মধ্যে কি একজনকেও যোগ্য মনে হলো না? কেন বারবার কালিয়াগঞ্জে বাইরের বা অরাজনৈতিক মুখকে ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?”​ক্ষুব্ধ কর্মীদের দাবি, যারা দিনরাত এক করে দলের সংগঠনের জন্য রক্ত-ঘাম ঝরিয়েছেন, তাঁদের ব্রাত্য করে দিয়ে হঠাৎ একজন মহারাজকে প্রার্থী করায় সাধারণ কর্মীদের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে। তাঁদের প্রশ্ন, উচ্চ নেতৃত্ব কি তবে স্থানীয় নেতৃত্বের ওপর ভরসা হারিয়ে ফেলেছে?​অন্যদিকে, বিজেপির একটি অংশ মনে করছে, উৎপল মহারাজের মতো একজন ব্যক্তিত্বকে প্রার্থী করায় দলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ছায়া তাঁর গায়ে নেই, এটাই তাঁর প্লাস পয়েন্ট হতে পারে। তবে কর্মীদের একাংশ যে কুণ্ঠিত, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। তাঁদের মতে, “যিনি দীক্ষা দেন, যিনি ত্যাগের শিক্ষা দেন, তাঁকে রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়ির মধ্যে টেনে আনাটা দলের জন্য হিতে বিপরীত হবে না তো?”​সব মিলিয়ে, কালিয়াগঞ্জের কুনর আশ্রমের স্বামীজিকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। একদিকে স্বামীজির ভক্তকুল, অন্যদিকে দলের বিক্ষুব্ধ কর্মী— এই দুইয়ের মেলবন্ধনে নির্বাচনী ফলাফল কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার