কালিয়াগঞ্জে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি, তবুও কি লড়াইয়ে ঘাটতি? ‘সেটিং’ না কি রণকৌশল—প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ
তন্ময় চক্রবর্তী আজ উত্তর দিনাজপুর জেলা কালিয়াগঞ্জ পাইওনিয়ার কো-অপারেটিভ ও এগ্রিকালচার কো-অপারেটিভ এর নির্বাচনে ০৮ + ০৮ = ১৬ আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আজ তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করলো।সকল জয়ী প্রার্থীকে জাতীয়তাবাদী সবুজ অভিনন্দন জানাই। কালিয়াগঞ্জ থেকে আবার বামফ্রন্টকে পরাজয় ঘটলো। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন এলাকা।

বর্তমানে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক (MLA) বিজেপি-র, এলাকার সাংসদ (MP)-ও বিজেপি-র। এমনকি কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার ৬ জন কাউন্সিলরও বিজেপি-র টিকিটে জয়ী।এত বড় সাংগঠনিক শক্তি এবং জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও, নির্বাচনের ময়দানে বিজেপির ভূমিকা নিয়ে খোদ দলের সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধছে গভীর সংশয়।এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া—সর্বত্রই এখন একটিই আলোচনা: “এত শক্তি থাকা সত্ত্বেও বিজেপি কি তবে লড়াইয়ের ক্ষমতা হারিয়েছে?” মানুষের মনে ওঠা প্রধান প্রশ্নগুলো হলো:বিধায়ক এবং সাংসদ থাকা সত্ত্বেও বুথ স্তরে কেন শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন দেখা যাচ্ছে না?পৌরসভায় শক্তিশালী বিরোধী পক্ষ হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে কতটা সক্রিয় কাউন্সিলররা?নির্বাচনের সময় কি তবে তলে তলে কোনো ‘সেটিং’ বা গোপন সমঝোতা চলছে?কালিয়াগঞ্জের সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশের মতে, জনপ্রতিনিধি থাকলেই হয় না, তার প্রতিফলন মাঠে-ঘাটে দেখতে পাওয়া জরুরি। জনৈক সাধারণ নাগরিকের কথায়, “আমরা ভোট দিয়ে বিজেপিকে জিতিয়েছি। সাংসদ, বিধায়ক সবই তাদের। কিন্তু নির্বাচনের সময় যখন লড়াই করার দরকার হয়, তখন নেতৃত্বকে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না কেন? এটা কি নিছক ব্যর্থতা নাকি পরিকল্পিত কোনো চাল, সেটা এখন মানুষকে বুঝতে হবে।”বিশ্লেষকদের মতে, কালিয়াগঞ্জে বিজেপির এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ বা ‘দুর্বলতা’র অভিযোগ দলের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলতে পারে। যদি দ্রুত সংগঠন চাঙ্গা না হয় এবং মানুষের এই ‘সেটিং’ তত্ত্বের যথাযথ উত্তর বিজেপি নেতৃত্ব না দিতে পারে, তবে আগামী দিনে কালিয়াগঞ্জের এই শক্ত দুর্গে ফাটল ধরা অস্বাভাবিক নয়।রাজনীতিতে জনমতই শেষ কথা। কালিয়াগঞ্জের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা স্রেফ প্রতিশ্রুতি বা পদ নয়, কাজের প্রতিফলন দেখতে চান। বিজেপি নেতৃত্ব কি মানুষের এই সন্দেহের মেঘ কাটাতে পারবে? উত্তর দেবে সময় ।এই প্রসঙ্গে কালিয়াগঞ্জ টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত সরকার বলেন, “এই ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে যে কালিয়াগঞ্জের মানুষ উন্নয়ন ও সংগঠনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। বিজেপির তথাকথিত শক্তি আসলে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। মাঠে-ময়দানে তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই বলেই আজ তারা নির্বাচনে লড়াই করতেই নামতে পারল না।”তিনি আরও বলেন,“মানুষ ‘সেটিং’ নয়, কাজ বোঝে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে উন্নয়নের রাজনীতি চলছে, মানুষ তার সঙ্গেই রয়েছে।”অন্যদিকে, কালিয়াগঞ্জ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কনভেনর নিতাই বৈশ্য বলেন,“এই জয় কোনও হঠাৎ ঘটনা নয়। বুথ থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত তৃণমূল কর্মীরা মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করেছেন। বিজেপির সাংসদ-বিধায়ক থাকলেও মানুষ তাঁদের কাজ মাঠে দেখতে পাননি। তাই আজ তারা নির্বাচনের ময়দানেই অনুপস্থিত।”তিনি আরও বলেন,“মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের রাজনীতির উপর আস্থা রেখেই মানুষ তৃণমূলের পাশে আছেন। আগামী দিনেও এই বিশ্বাস আরও মজবুত হবে।”

![]()
