কমিশনারকেই ‘ভগবান’ মানলেন সমাজকর্মী! জল-কাদায় দণ্ডি কেটে দরবারে সবুজ, হাতে স্মারকলিপি
রাধারানী হালদারের বিশেষ রিপোর্ট :-রাস্তা সংস্কারের দাবিতে এবার অভিনব প্রতিবাদের সাক্ষী থাকল কালিয়াগঞ্জ শহর। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রাস্তা, খানাখন্দ আর জল-কাদায় অতিষ্ঠ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
বারবার অভিযোগ জানিয়েও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিলেন সমাজকর্মী সবুজ সাহা। জল-কাদায় ভরা রাস্তার উপর দিয়ে দণ্ডি কাটতে কাটতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনারের বাড়ির সামনে পৌঁছে গেলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী সুস্মিতা-সহ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। সেখানে কমিশনারের হাতে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে তুলে দেওয়া হয় লিখিত স্মারকলিপি।সবুজ সাহার এই অভিনব প্রতিবাদকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কালিয়াগঞ্জ শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর দাবি, ভোটে জেতার পর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার এখনও পর্যন্ত তাঁদের এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনেননি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দুরবস্থা নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ হয়নি বলেই তাঁর অভিযোগ।কেন দণ্ডি কেটে প্রতিবাদ? তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন সবুজ সাহা। তাঁর কথায়, “আমাদের এলাকার কমিশনার নিজেকে ভগবান মনে করেন। আমি শুনেছি, ভগবানের কাছে দণ্ডি কেটে গেলে নাকি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। তাই আমাদের এলাকার কমিশনারকে ভগবান মনে করেই জল-কাদা মাড়িয়ে দণ্ডি কাটতে কাটতে তাঁর দরবারে গিয়েছি। শুধু তাই নয়, একটি স্মারকলিপিও তাঁর হাতে তুলে দিয়েছি। জানি না এবার কী হবে।”স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা নামলেই ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও জমে থাকছে হাঁটুসমান জল, আবার কোথাও কাদায় কার্যত চলাচল করাই দায়। স্কুলপড়ুয়া, বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী—প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তাঁরা। একইসঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।সবুজ সাহার অভিযোগ, “দিনের পর দিন সাধারণ মানুষ সমস্যায় ভুগছেন। অথচ তাঁদের কথা শোনার জন্য কমিশনার এলাকায় আসেন না। তাই বাধ্য হয়েই এই অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছি।”তবে স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনারের প্রতি ক্ষোভ থাকলেও কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার পৌরপতি তথা রায়গঞ্জের সাংসদ কার্তিক চন্দ্র পালের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে বলেও জানান সবুজ সাহা। তাঁর কথায়, “এলাকার কমিশনারের প্রতি আমার আস্থা নেই। কিন্তু কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার পৌরপতি কার্তিক চন্দ্র পালের প্রতি আমার অগাধ আস্থা ও ভরসা রয়েছে। বিগত দিনে কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। কালিয়াগঞ্জের উন্নয়নের কান্ডারী হয়ে উঠেছেন তিনি। তাই আশা করছি, এই সমস্যার কথাও তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করবেন।”অন্যদিকে, রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।তবে পুর কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরেও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রশ্ন একটাই—“কবে সারবে বেহাল রাস্তা?” প্রশাসনিক আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসী। বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই সংস্কারের কাজ শুরু না হলে তাঁদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা।

