‘একটি হেলমেট বাঁচাতে পারে একটি পরিবার’—রায়গঞ্জে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহের জাঁকজমকপূর্ণ সূচনা
রায়গঞ্জ:“একটি হেলমেট বাঁচাতে পারে একটি পরিবার, একটি সচেতন সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে দিতে পারে একটি জীবন। সড়ক শুধু চলার পথ নয়, নিরাপদে ঘরে ফেরার অঙ্গীকার।”—এই মানবিক ও জীবনমুখী বার্তাকে সামনে রেখেই সোমবার উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ শহরের শিলিগুড়ি মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হল পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ কর্মসূচির।সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যাতায়াতের সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পথ নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক শেভালে অভিজিৎ তুকারাম, রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সোনওয়ানে কুলদীপ সুরেশ, কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল ব্রহ্মচারী, হেমতাবাদের বিধায়ক হরিপদ বর্মন, বিজেপির জেলা সভাপতি তথা সমাজসেবী নিমাই কবিরাজ, পাশাপাশি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক, ট্রাফিক পুলিশ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের মধ্যে হেলমেট বিতরণ। পাশাপাশি চালক, পথচারী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রচারাভিযান চালানো হয়। নিরাপদ গতিতে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা, জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার, মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি না চালানো, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট এবং চারচাকা গাড়িতে সিটবেল্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অধিকাংশই অসচেতনতা ও ট্রাফিক আইন অমান্যের ফল। একটু সতর্কতা, সামান্য নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস এবং নিজের ও অন্যের জীবনের প্রতি দায়িত্ববোধই বহু মূল্যবান প্রাণ রক্ষা করতে পারে। তাই পথ নিরাপত্তাকে কেবল প্রশাসনের দায়িত্ব হিসেবে না দেখে প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়।রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার সোনওয়ানে কুলদীপ সুরেশ বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন। আগামী সাত দিন ধরে জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, প্রচার অভিযান ও ট্রাফিক নিরাপত্তা শিবিরের আয়োজন করা হবে। আমরা চাই প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদে বাড়ি ফিরুন। ট্রাফিক আইন মেনে চলার অভ্যাসই দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারে।”উপস্থিত অতিথিরাও নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁরা বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া পথ দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। তাই প্রত্যেককে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়।পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সচেতনতামূলক র্যালি, পথনাটিকা, স্কুল-কলেজে বিশেষ কর্মসূচি, ট্রাফিক সচেতনতা শিবির, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহারের প্রচার এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।অনুষ্ঠানের শেষে সকলের উদ্দেশে একটাই বার্তা তুলে ধরা হয়—“নিয়ম মেনে চলুন, নিরাপদে চলুন। একটি হেলমেট শুধু একজন মানুষকেই নয়, একটি পরিবারকেও রক্ষা করতে পারে।”

