এইমস নেই বাজেটে, উত্তরবঙ্গে বিজেপির ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ শুরু—ঘরে-বাইরে চাপে গেরুয়া শিবির
তন্ময় চক্রবর্তী:কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তরবঙ্গের জন্য এইমস সংক্রান্ত কোনও ঘোষণার অনুপস্থিতি ঘিরে ক্রমশ চাপে পড়ছে বিজেপি। শিলিগুড়ির জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তরবঙ্গে এইমস নিয়ে যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, বাজেটে তার কোনও প্রতিফলন না থাকায় আমজনতার ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে। সেই সঙ্গে দলের অন্দরের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও শুরু হয়েছে প্রশ্নবাণ—ভোটের ময়দানে নেমে উত্তরবঙ্গবাসীর কাছে কী ‘তোফা’ দেখিয়ে ভোট চাইবে বিজেপি?দলের কর্মীদের একাংশ স্পষ্ট করে জানতে চাইছেন, রাজ্যের ঢালাও জনমুখী প্রকল্পের পাল্টা দিতে কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তরবঙ্গের জন্য কী রয়েছে? যে এইমস নিয়ে উত্তরবঙ্গবাসীকে দীর্ঘদিন স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, তার বিষয়ে বাজেটে কেন কোনও উল্লেখ নেই? ভোটের প্রচারে গেলে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুললে কী জবাব দেবেন বিজেপি নেতারা—এই প্রশ্নেই অস্বস্তি বাড়ছে গেরুয়া শিবিরে।এই পরিস্থিতিতে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এ নেমেছে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রের খবর, নিচুতলার কর্মীদের বোঝানো হচ্ছে—সব প্রকল্পের ঘোষণা বাজেটেই হতে হবে এমন কোনও কথা নেই।

নোটিফিকেশন জারি করেও অনেক কাজ করা যায়, উত্তরবঙ্গের এইমস নিয়েও তেমনটাই হবে। আপাতত সেই বার্তাই জনতার কাছে পৌঁছে দিতে মরিয়া বিজেপি নেতারা। তবে বারবার আশ্বাস দিয়ে আদৌ কতটা আস্থা ফেরানো সম্ভব, তা নিয়েই দলের অন্দরে সংশয় দানা বাঁধছে।এইমস ইস্যুতে উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায় বিজেপি কর্মীদের একাংশ সরব। তাঁদের দাবি, ভোটের আগে নোটিফিকেশন জারি করে এইমস ঘোষণার স্পষ্ট নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে উত্তরবঙ্গের এইমস প্রকল্পটি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। কিন্তু রাজ্য নেতৃত্ব সেই নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না বলেই অভিযোগ।এই প্রেক্ষিতে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “আসলে বাজেটে মুখ পুড়েছে বিজেপির। কোন মুখে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাবে, তা ওরা নিজেরাই বুঝতে পারছে না। এইমস নিয়ে বাজেটে কেন ঘোষণা হল না? কারণ সবটাই বিজেপির ভাঁওতাবাজি। উত্তরের মানুষ ওদের মিথ্যাচার ধরে ফেলেছে। ছাব্বিশের ভোটে বিজেপি উত্তরবঙ্গে ধরাশায়ী হবে।”সব মিলিয়ে, এইমস ইস্যুতে উত্তরবঙ্গে বিজেপির অস্বস্তি এখন প্রকাশ্যে। আশ্বাস আর বাস্তবতার ফারাক ঘোচাতে না পারলে, আসন্ন ভোটের আগে এই ইস্যুই যে গেরুয়া শিবিরের গলার কাঁটা হয়ে উঠতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।




![]()
