আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনের নানা প্রশ্নে সরব বক্তারা ,‘প্রতীতি’-র আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ | ২১ ফেব্রুয়ারি :আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় এবং কালিয়াগঞ্জের ভ্রাম্যমান সাহিত্য, সংস্কৃতি ও কৃষ্টি সংস্থা ‘প্রতীতি’–র উদ্যোগে ৪৮তম বর্ষের দশম অধিবেশন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানের সূচনায় অনল কুমার ফৌজদারের নেতৃত্বে সুস্মিতা দে, শ্যামলী সরকার, রূপা বসাক ও বিপুল মৈত্র সমবেত কণ্ঠে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো ২১শে ফেব্রুয়ারি” গান পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রতীতির প্রাক্তন সভাপতি ও প্রাক্তন শিক্ষক তপন কুমার চক্রবর্তী। তিনি ২১শে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, বাংলা ভাষা আমাদের প্রাণের ভাষা, মাতৃদুগ্ধের মতো—তাকে চোখের মণির মতো ভালোবাসতে হবে। তাঁর আবেগঘন ও যুক্তিনির্ভর আলোচনা উপস্থিত শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।অনুষ্ঠানের মাঝখানে মাতৃভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক মণীশঙ্কর মুখার্জি (শংকর)–এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রীজিতা সরকারএবং তাপস চ্যাটার্জি । একুশে ফেব্রুয়ারি প্রসঙ্গে আলোচনা ও কবিতা পাঠ করেন ড. স্বদেশ কুমার সরকার। বিশিষ্ট আবৃত্তিকার নরেন্দ্র নারায়ন চক্রবর্তী তাঁর আবৃত্তি দিয়ে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন।অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি সুকান্ত গুহ। আলোচনায় অংশ নেন সম্রাট দে, মৃন্ময় কর, শুভ্রব্রত চক্রবর্তী, অরুণ দাস, রাধিকা রঞ্জন দেবভূতি ও বিশ্বজিৎ সরকার এবং প্রদীপ কুমার কুন্ডু । এছাড়াও স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন সনাতন তালুকদার, অমল কৃষ্ণ মণ্ডল ও দেবাশীষ চৌধুরী।আলোচনায় বিশেষভাবে নজর কাড়ে কবি প্রদীপ কুমার রায় ও সংস্থার সদস্য কাজল মোদক–এর বক্তব্য। প্রদীপ কুমার রায় জোরালো ভাষায় প্রশ্ন তোলেন—মাতৃভাষা দিবসে কেন ইংরেজি ভাষায় ২১শে ফেব্রুয়ারির উল্লেখ করা হয়? কেন বাংলার ভাষা আন্দোলনের ১৩৫৮ সালের ৮ই ফাল্গুনের কথা আলোচনায় উঠে আসে না?অন্যদিকে কাজল মোদক তাঁর বক্তব্যে প্রশ্ন করেন—“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো” গানটিতে শুধু ভাইয়ের কথা বলা হয় কেন? ভাষা আন্দোলনে শহীদ হওয়া বোনেদের কথা কেন উল্লেখ করা হয় না? বহু নারী শহীদ হলেও তাদের অবদান কি তবে উপেক্ষিত?এই প্রশ্ন ও আলোচনার মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানটি নতুন চিন্তার দিশা দেখিয়ে সমাপ্ত হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট নাম অনুসন্ধানকারী রাজ কুমার জাজদিয়া।সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সঞ্চালনা করেন সংস্থার যুগ্মসাধারণ সম্পাদক বিপুল মৈত্র।
