“সমস্যা নিয়ে আর ছুটতে হবে না!” জনতার দরবারে বিধায়ক উৎপল মহারাজ, মানুষের দুয়ারে পৌঁছে শুনছেন অভাব-অভিযোগ

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ১ সেপ্টেম্বর: প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বিধানসভা—জনপ্রতিনিধির ব্যস্ততার শেষ নেই। তার মধ্যেও এলাকার সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে এবার গ্রামেগঞ্জে পৌঁছে যাচ্ছেন কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক উৎপল মহারাজ। কালিয়াগঞ্জ ব্লকের আটটি অঞ্চলে সপ্তাহে একটি করে দিন ‘বিধায়কের জনতার দরবার’ বসিয়ে স্থানীয় মানুষের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা সরাসরি শুনছেন তিনি।

বিধায়কের এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই গ্রামবাংলার মানুষের মধ্যে সাড়া পড়েছে। শুধু গ্রামাঞ্চল নয়, কালিয়াগঞ্জ শহরের বাসিন্দাদের একাংশও বিধায়কের এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এলাকার মানুষের সমস্যা জানতে জনপ্রতিনিধি নিজে তাঁদের কাছে পৌঁছে গেলে প্রশাসনের কাছে সমস্যাগুলি তুলে ধরা অনেক সহজ হয়।মঙ্গলবার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ৯ নম্বর বরুনা অঞ্চলে পৌঁছয় ‘বিধায়কের জনতার দরবার’। সেখানে সকাল থেকেই নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বহু মানুষ বিধায়ক উৎপল মহারাজের কাছে হাজির হন। কেউ ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে, কেউ এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে, আবার কেউ সামাজিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিধায়ক মন দিয়ে তাঁদের কথা শোনেন এবং সম্ভব ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

“আসল কাজের জন্য সময় বের করতেই জনতার দরবার”

এক সাক্ষাৎকারে কালিয়াগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক উৎপল মহারাজ বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন বৈঠক, শহরের বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠান এবং বিধানসভার অধিবেশনে উপস্থিত থেকে নিজের এলাকার সমস্যা নিয়ে কথা বলতে হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি বসে তাঁদের সমস্যা শোনার জন্য অনেক সময়ই পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না।

বিধায়কের কথায়, “কালিয়াগঞ্জ শহরের পাশাপাশি ব্লকের আটটি অঞ্চলের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার জন্য সপ্তাহে একদিন করে তাঁদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছি। তাঁদের সমস্যার কথা সরাসরি শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

তবে সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও স্বীকার করেন বিধায়ক। তিনি বলেন, অনেকের সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নিয়মকানুন কিংবা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার কারণে দ্রুত সমাধান সম্ভব হচ্ছে না।

উৎপল মহারাজের কথায়, “সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস। এই তিন মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”

শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, গুরুত্ব পাচ্ছে সামাজিক সমস্যাও

বিধায়কের জনতার দরবারে শুধু ব্যক্তিগত অভাব-অভিযোগই নয়, এলাকার বৃহত্তর সামাজিক সমস্যাগুলিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান উৎপল মহারাজ।

তিনি বলেন, “কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় শুধু মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে তা নয়, অনেক সামাজিক সমস্যাও রয়েছে। সেগুলিও সবার সহযোগিতা নিয়ে আমাকে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।”

আর এই সামাজিক সমস্যার তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কালিয়াগঞ্জ শহরে একটি মহিলা কলেজ স্থাপনের বিষয়টি।

কালিয়াগঞ্জে মহিলা কলেজ—আলোচনা শুরু

বিধায়ক জানান, কালিয়াগঞ্জ শহরে মহিলা কলেজ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মহিলা কলেজ করার কথা ঘোষণা হওয়ায় ইতিমধ্যেই সেই কলেজ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে।

উৎপল মহারাজ বলেন, “কালিয়াগঞ্জ শহরে একটি মহিলা কলেজের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই আমরা দাবি জানিয়েছিলাম। সরকার মহিলা কলেজের অনুমোদন দিয়েছে। এবার কলেজটি যাতে বাস্তবে দ্রুত গড়ে ওঠে, তার জন্য সবার সঙ্গে আলোচনা করে কাজ শুরু করেছি।”

বিধায়কের মতে, কালিয়াগঞ্জে মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকার ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে আর্থিক বা পারিবারিক কারণে দূরের কলেজে পড়তে যেতে পারেন না—এমন বহু ছাত্রীর জন্য স্থানীয়ভাবে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।

জনতার দরবারে বাড়ছে প্রত্যাশা

বরুনা অঞ্চলের জনতার দরবারে মানুষের উপস্থিতি দেখেই বোঝা যায়, জনপ্রতিনিধির কাছে সরাসরি নিজের কথা বলার সুযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিধায়কও জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জনতার দরবারের মাধ্যমে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিধায়কের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকার প্রকৃত সমস্যাগুলিও কাছ থেকে জানার সুযোগ পাচ্ছেন বিধায়ক।

এখন দেখার, জনতার দরবারে উঠে আসা মানুষের অভাব-অভিযোগ কত দ্রুত বাস্তব সমস্যার সমাধানে রূপ নেয়। তবে বিধায়কের এই উদ্যোগে অন্তত নিজের সমস্যার কথা সরাসরি জনপ্রতিনিধির কাছে জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন কালিয়াগঞ্জের সাধারণ মানুষ।