“রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তা! বিধানসভায় শপথ নিলেন ইটাহারের তৃণমূল বিধায়ক মোশারফ হোসেন — মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথোপকথন ঘিরে জোর চর্চা”

আজ রাজ্যের বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করলেন উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মোশারফ হোসেন। তবে শুধুমাত্র শপথ গ্রহণ নয়, এদিন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে শপথের আগে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্যমূলক কথোপকথন।

রাজ্যে এবার রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিজেপি সরকার গঠন করেছে। সেই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের বিধায়ক হিসেবে মোশারফ হোসেনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর হাসিমুখে কথাবার্তা অনেকের কাছেই ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ধরা পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, “এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও উন্নয়নের প্রশ্নে সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মান থাকা উচিত।”বিধানসভায় শপথ নেওয়ার সময় আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে দেখা যায় মোশারফ হোসেনকে। শপথের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান,“ইটাহারের মানুষের স্বার্থই আমার প্রথম অগ্রাধিকার। রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক, এলাকার উন্নয়নের জন্য সবসময় কাজ করে যাব।”শপথ গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ইটাহার জুড়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। চায়ের দোকান থেকে বাজার, গ্রামাঞ্চল থেকে শহর — সর্বত্রই মোশারফ হোসেনকে নিয়ে দেখা যায় আগ্রহ ও প্রত্যাশা।স্থানীয় ব্যবসায়ী রহিমুদ্দিন শেখ বলেন,“রাজনীতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু এলাকার উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মোশারফ সাহেব মানুষের পাশে থাকেন বলেই আমরা তাঁকে ভালোবাসি।”কলেজ ছাত্র সায়ন দাসের বক্তব্য,“আজ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা দেখে ভালো লেগেছে। রাজনৈতিক ভিন্নতা থাকলেও সৌজন্য বজায় থাকা দরকার। তরুণ প্রজন্ম এটা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে।”অন্যদিকে, কৃষক মহলেও আশাবাদ দেখা গেছে। ইটাহারের কৃষক নুর আলম বলেন,“চাষের সমস্যা, রাস্তার সমস্যা, সেচের সমস্যা অনেকদিন ধরেই রয়েছে। আমরা চাই মোশারফ হোসেন সেই বিষয়গুলো বিধানসভায় জোরালোভাবে তুলে ধরুন।”মহিলা মহলেও ছিল উৎসাহ। স্থানীয় গৃহবধূ পূর্ণিমা সরকার বলেন,“স্বাস্থ্য পরিষেবা ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও কাজ হওয়া দরকার। মোশারফ হোসেন এলাকার মানুষের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখেন, তাই আমরা আশাবাদী।”সামাজিক মাধ্যমেও দিনভর ভাইরাল হয় শপথ গ্রহণের মুহূর্ত এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্যমূলক আলাপচারিতার ছবি। অনেকেই মন্তব্য করেন,“রাজনীতিতে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের স্বার্থে সৌজন্যপূর্ণ সম্পর্কই হওয়া উচিত।”রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবার বিরোধী দলের বিধায়ক হিসেবে মোশারফ হোসেনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ইটাহারের উন্নয়নের দাবিগুলোকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা। তবে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, তিনি এলাকার মানুষের স্বার্থে সোচ্চার থাকবেন।আজকের এই শপথ গ্রহণ শুধুমাত্র একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজনৈতিক সৌজন্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং উন্নয়নের প্রত্যাশার এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলেই মনে করছেন ইটাহারের বহু মানুষ।