“যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা” — রায়গঞ্জ রেল স্টেশনে তৃণমূলের জনসভায় গর্জন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর

তন্ময় চক্রবর্তী রায়গঞ্জ:২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে উত্তর দিনাজপুরে। সেই আবহেই মঙ্গলবার রায়গঞ্জ রেল স্টেশনে অনুষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভা কার্যত পরিণত হলো শক্তি প্রদর্শনে। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি, জনতার উচ্ছ্বাস ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ স্পষ্ট করে দিল—রায়গঞ্জে তৃণমূলের সংগঠন ও জনভিত্তি এখনো অটুট।সভা মঞ্চ থেকে তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। তিনি বলেন,“যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা। আজকের এই জনসভা বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যতের পক্ষে মানুষের রায়ের এক প্রাথমিক খসড়া।

”বক্তৃতায় বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরে বিধায়ক বলেন, বাংলার মানুষকে সর্বস্তরে বঞ্চনা করেছে বাংলা-বিরোধী বিজেপি।“১০০ দিনের কাজ হোক বা আবাস যোজনা, সামাজিক সুরক্ষা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের অধিকার—সব ক্ষেত্রেই বিজেপির অবদান শূন্য বললেও কম বলা হয়,” স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন তিনি।

আরও একধাপ এগিয়ে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন,“যারা একসময় বোমা-বন্দুকের রাজনীতি করে লাল-সন্ত্রাস চালাত, আজ তারা গেরুয়া বাহিনী হয়ে তাণ্ডব করছে। মুখ বদলালেও চরিত্র বদলায়নি।”সভা থেকে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন,“আমি মানুষের সামনে খোলা চ্যালেঞ্জ রাখছি।

বিজেপি তাদের ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুক, আর আমি তুলে ধরব বাংলায় মা–মাটি–মানুষের সরকারের ১৫ বছরের কাজের হিসেব। দেখি তারা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার সাহস দেখায় কিনা।”২০২৬-এর লড়াই প্রসঙ্গে বিধায়ক স্পষ্ট বার্তা দেন—“এই জনসভা থেকেই ২০২৬-এর লড়াইয়ের পথচলা শুরু হোক। সততা আর দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমরা এগোব। রায়গঞ্জের মানুষের পাশে আমি আছি, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ব—যতদিন না এই মাটি থেকে বাংলা-বিরোধী বিজেপির পতন সুনিশ্চিত হচ্ছে।”সভা জুড়ে ছিল মানুষের প্রবল উচ্ছ্বাস, স্লোগানে মুখরিত এলাকা, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের দৃঢ় উপস্থিতি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জনসভা উত্তর দিনাজপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রস্তুতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।