মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পোস্টার ছেঁড়াকে ঘিরে ইসলামপুরে উত্তেজনা, থানায় অভিযোগ—তদন্তের নির্দেশ পৌরসভার

ইসলামপুর শহরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র ছবি-সংবলিত একটি সরকারি পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ইসলামপুর পৌরসভার সামনে ঘটেছে বলে অভিযোগ। বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে লাগানো ওই পোস্টারটি কে বা কারা ছিঁড়ে দেয়, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি ওঠে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর পৌরসভার সামনে বিদ্যুৎ দপ্তরের উদ্যোগে একটি পোস্টার টাঙানো ছিল। সেই পোস্টারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি ছিল। শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীদের নজরে আসে যে পোস্টারটি আংশিকভাবে ছেঁড়া অবস্থায় রয়েছে। এরপরই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, এটি নিছক দুষ্টুমি নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার পাশাপাশি দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ছবি অবমাননার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ইসলামপুর পৌরসভা এবং ইসলামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, যেখানে পোস্টারটি ছিল সেখানে দ্রুত নতুন পোস্টার লাগানোর দাবি জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বৃহত্তর গণআন্দোলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তারা।অন্যদিকে, ইসলামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন,“বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি পৌরসভার বড়বাবুকে অবিলম্বে ইসলামপুর থানায় একটি জেনারেল ডায়েরি (জিডি) করার নির্দেশ দিয়েছি। পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে এবং ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পোস্টারটি কীভাবে ছিঁড়ল, এর পিছনে কোনও দুষ্কৃতীচক্র বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।ঘটনার জেরে ইসলামপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলের।