মাসিক ৭৫০০ টাকা পেনশন ও মহার্ঘ ভাতার দাবিতে জলপাইগুড়ির আরপিএফসি অফিসে ইপিএফ–৯৫ পেনশন হোল্ডারদের ডেপুটেশন

“এটা দয়া নয়, আমাদের জমাকৃত অর্থের ন্যায্য অধিকার”— কড়া বার্তা ন্যাশনাল এজিটেশন কমিটির

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর | ১১ ফেব্রুয়ারি মাসিক ন্যূনতম ৭৫০০ টাকা পেনশন, তার সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা ও স্বামী–স্ত্রী উভয়ের জন্য চিকিৎসা ভাতার দাবিতে জলপাইগুড়ির আরপিএফসি (RPFC) অফিসে ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করলেন ইপিএফ–৯৫ অবসরপ্রাপ্ত পেনশন হোল্ডাররা। ন্যাশনাল এজিটেশন কমিটির পশ্চিমবঙ্গ শাখার কোচবিহার জেলার উদ্যোগে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।ন্যাশনাল এজিটেশন কমিটির পশ্চিমবঙ্গ শাখার কোচবিহার জেলা সভাপতি গোপাল কৃষ্ণ পালের নেতৃত্বে বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত ইপিএফ–৯৫ কর্মীরা আরপিএফসি অফিসে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপির সঙ্গে ১৫ জন বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর নামের তালিকাও জমা দেওয়া হয় বলে জানান জেলা সভাপতি গোপাল কৃষ্ণ পাল।এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোপাল কৃষ্ণ পাল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন,“সারা ভারতবর্ষে প্রায় ৭৮ লক্ষ ইপিএফ–৯৫ পেনশন হোল্ডার আজ মাসে মাত্র এক হাজার টাকা পেনশন পাচ্ছেন। কোন সভ্য দেশে এত অল্প পেনশনে মানুষ বাঁচতে পারে?”তিনি আরও বলেন,“কেন্দ্রীয় সরকার তেলামাথায় তেল দিয়ে যাচ্ছে, অথচ অবসরপ্রাপ্ত শ্রমজীবী মানুষদের ন্যূনতম সম্মানজনক পেনশনের ব্যবস্থা করতে পারছে না। তাহলে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে বলেন—‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ, সব কা বিশ্বাস’?”বিজেপির মুখপাত্র প্রকাশ জাভেরকারের ২০১৩ সালের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,“তিনি বলেছিলেন বিজেপি কেন্দ্রে সরকার গঠন করলে ৯০ দিনের মধ্যে ইপিএফ–৯৫ পেনশন হোল্ডারদের জন্য উপযুক্ত পেনশনের ব্যবস্থা করা হবে। আজ এত বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর আর কোনও খোঁজ নেই।”গোপাল কৃষ্ণ পাল স্পষ্ট ভাষায় জানান,“আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দয়া ভিক্ষা চাইছি না। আমরা আমাদের নিজেদের জমাকৃত অর্থ থেকেই মাসিক ৭৫০০ টাকা পেনশন ও মহার্ঘ ভাতা চাই। এটা আমাদের অর্জিত অধিকার।”তিনি আরও জানান, এই ন্যায্য দাবিকে সামনে রেখে আগামী ৯ থেকে ১১ মার্চ দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় মহা অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সারা দেশ থেকে কয়েক লক্ষ ইপিএফ–৯৫ পেনশন হোল্ডারের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কর্মসূচিকে সফল করতে ইতিমধ্যেই সর্বভারতীয় স্তরে জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।এদিনের ডেপুটেশনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার জেলার উপদেষ্টা পুষ্পজিৎ রায়, গৌরাঙ্গ সেন, কনক কুমার দাস, সুবল চন্দ্র ঘোষ, জীবনকৃষ্ণ সাহা, বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, বঙ্কু বিহারী মণ্ডল, তপন তালুকদার, স্বপন দাশগুপ্ত সহ আরও অনেকে।