“মানুষের ঢল, ভালোবাসার জোয়ার—রায়গঞ্জে রেকর্ড জয়ের আত্মবিশ্বাসে কৃষ্ণ কল্যাণী”

তন্ময় চক্রবর্তী :- রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচারে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে জনসমর্থনের চিত্র। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা বর্তমান বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর প্রচারে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ যেন উৎসবের আবহ তৈরি করেছে।

শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই মানুষের ঢল, কেউ ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন, কেউ আবার পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটছেন প্রার্থীর সঙ্গে।কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, “সারা বছর মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি, আপদে-বিপদে দাঁড়িয়েছি। আজ সেই কাজেরই প্রতিফলন পাচ্ছি।

মানুষের এই ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার আগামী দিনে আরও ভালো কাজ করার শক্তি জোগাচ্ছে।”তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তিনি সবসময় সচেষ্ট ছিলেন এবং অনেকটাই সফল হয়েছেন বলেই এবারও মানুষ তাকে চাইছেন। তাঁর লক্ষ্য, রায়গঞ্জ বিধানসভাকে রাজ্যের মধ্যে অন্যতম সেরা হিসেবে গড়ে তোলা এবং রায়গঞ্জ শহরকে একটি মডেল সিটিতে পরিণত করা।প্রচারের আবহ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, “আমি কোনও লড়াই দেখছি না। চারিদিকে যেভাবে মানুষ দুহাত তুলে তৃণমূল কংগ্রেসকে আশীর্বাদ করছেন, তাতে ফলাফল স্পষ্ট।”রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য জুড়ে একাধিক প্রকল্প চালু করেছেন, যার সরাসরি সুফল পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর প্রকল্প না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।ভোটার তালিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, “বৈধ ভোটারদের নাম কাটার চক্রান্ত চলছে, কিন্তু মানুষ এ সব বুঝে গিয়েছে এবং এর জবাব দেবে।”নিজের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে কৃষ্ণ কল্যাণী জানান, তিনি একটি রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছেন, যেখানে রায়গঞ্জ বিধানসভায় ৫৫০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ এবং প্রায় ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার তথ্য রয়েছে।

সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “কর্মই সর্বশ্রেষ্ঠ। আমি যা কাজ করেছি, তার ভিত্তিতেই মানুষ এবার সিদ্ধান্ত নেবে।”প্রচারের শেষ লগ্নে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, মানুষের বিপুল সমর্থনে রায়গঞ্জ বিধানসভায় এবার ঐতিহাসিক ফলাফল হতে চলেছে এবং রেকর্ড সংখ্যক ভোটে জয়ী হবে তৃণমূল কংগ্রেস।রায়গঞ্জের এক বাসিন্দা বলেন, “কৃষ্ণ কল্যাণী শুধু ভোটের সময় নয়, সারা বছরই আমাদের পাশে থাকেন। কোনও সমস্যা হলেই আমরা তাকে পাই। উনি একজন প্রকৃত সমাজসেবী মানুষ।”আরেকজনের কথায়, “আমাদের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে দাঁড়ান উনি। এলাকার অনেক উন্নয়ন হয়েছে তাঁর হাত ধরেই। রাস্তা, পরিষেবা—সব কিছুতেই পরিবর্তন এসেছে।”এক যুবক ভোটার জানান, “আমরা নিজের চোখে দেখেছি উনি কীভাবে মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তাই এবারও আমরা ওনার সঙ্গেই আছি। উনি জিতবেন, এটা আমরা নিশ্চিত।”এক প্রবীণ বাসিন্দার বক্তব্য, “রায়গঞ্জে এমন জনপ্রিয়তা খুব কম নেতারই আছে। মানুষ নিজের থেকেই ওনার প্রচারে বেরিয়ে পড়ছে। এতে বোঝাই যাচ্ছে ফল কী হতে চলেছে।”