ভোটের আগেই ডিজিটাল ময়দানে তৎপর রাজনৈতিক দলগুলি, উত্তর দিনাজপুরে জোরদার সমাজমাধ্যম প্রচার

তন্ময় চক্রবর্তী:আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা না হলেও রাজ্যের রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। মাঠের পাশাপাশি সমাজমাধ্যমকেও এবার প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার করে তুলেছে রাজনৈতিক দলগুলি। উত্তর দিনাজপুর জেলাজুড়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিরোধী বিজেপি, এমনকি বাম-কংগ্রেস—সবাই কার্যত ভোটের ময়দানে নেমে পড়েছে।সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল প্রচারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্স (টুইটার), ইউটিউব-সহ নানা সমাজমাধ্যমে ভিডিও, পোস্ট ও লাইভের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নির্বাচনী প্রচারে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ রাজ্যের প্রধান দুই দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি।

উত্তর দিনাজপুর জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে। দলের এক জেলা নেতা জানান, “এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানির বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নয়নের বার্তা নিয়ে আমাদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। নির্বাচন বা প্রার্থী ঘোষণা না হলেও তৃণমূল কর্মীরা পুরোপুরি রাস্তায় রয়েছে। একইসঙ্গে ডিজিটাল প্রচারের জন্য আলাদা দল তৈরি করা হয়েছে।”ডিজিটাল প্রচারে পিছিয়ে নেই বিজেপিও। বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ বলেন, “নির্বাচনের অনেক আগেই আমাদের প্রচার শুরু হয়েছে। আমাদের প্রচার ও প্রসার গঠনগত। জনসংযোগই বিজেপির মূল লক্ষ্য। তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন স্তরের দুর্নীতি চিহ্নিত করে তা মানুষের সামনে তুলে ধরাই আমাদের প্রচারের অন্যতম উদ্দেশ্য। সেই বিষয়গুলি ডিজিটাল মাধ্যমেও তুলে ধরা হচ্ছে।”বাম ও কংগ্রেস শিবিরও সমাজমাধ্যমকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। সিপিএমের জেলা নেতার বক্তব্য, “কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই সরকারের বিরুদ্ধেই লড়াই চালাতে দলীয় রণকৌশল তৈরি করা হচ্ছে। তার পরই জোরদার নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে।”অন্যদিকে কংগ্রেসের জেলা নেতা জানান, “জাতীয় ও রাজ্যস্তরের জনবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলিকেই প্রচারের মূল হাতিয়ার করা হচ্ছে।”সব মিলিয়ে, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই উত্তর দিনাজপুরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল ময়দানেও যে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।