বাংলার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারীই বাংলার আগামী মুখ্যমন্ত্রী ,বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত, ৯ মে শপথের প্রস্তুতি
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুরু হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, আন্দোলন ও সাংগঠনিক দক্ষতার পর অবশেষে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসতে চলেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তাঁকে দলনেতা নির্বাচিত করা হয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই তাঁর নাম মুখ্যমন্ত্রী পদে চূড়ান্ত হয় বলে সূত্রের খবর।নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা।

বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়, ৯ মে ২০২৬ তারিখে বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। এর মাধ্যমে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়তে চলেছেন তিনি।১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির করকুলিতে জন্ম শুভেন্দুর। রাজনৈতিক পরিবারেই তাঁর বেড়ে ওঠা। বাবা শিশির অধিকারী ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদ। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় শুভেন্দু প্রথমে কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু।পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে দ্রুতই রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্বই বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের অন্যতম বড় ভিত্তি তৈরি করে। সেই আন্দোলনের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে শুভেন্দুর গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে তমলুক কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৬ সালে নন্দীগ্রাম থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলান।তবে ২০২০ সালে নাটকীয়ভাবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন তিনি। সেই জয়ের পর থেকেই বাংলায় বিজেপির মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান শুভেন্দু।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি একসঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হন। বিশেষ করে ভবানীপুরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ঘাঁটিতে তাঁর জয় রাজনৈতিক মহলে বড় চমক তৈরি করেছে।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই তিনি রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি পেশ করবেন। ইতিমধ্যেই বিজেপি শিবিরে শুরু হয়েছে উদযাপন। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।বাংলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া শুধুমাত্র ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা।
