“প্রিয়হীন বাড়িতে কি ফিরবে পুজোর আলো? সংস্কারের কাজ শুরু হতেই প্রিয়রঞ্জনের স্মৃতিবিজড়িত দুর্গাপুজো ফেরার আশায় শ্রীকলোনিবাসী”
তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ২৩ আগস্ট:কালিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র, প্রয়াত প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি ও মন্দিরের সংস্কারের কাজ শুরু হতেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন শ্রীকলোনির বাসিন্দারা।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা প্রিয়রঞ্জনের বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো কি ফের শুরু হতে চলেছে? সংস্কারের কাজ ঘিরে ইতিমধ্যেই এমনই জল্পনা ছড়িয়েছে কালিয়াগঞ্জজুড়ে।প্রিয়রঞ্জনের বাড়িতে একসময় মহাসমারোহে দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হতো।
২০০৮ সালে শেষবার মূর্তি পুজো হয়েছিল। এরপর প্রিয়রঞ্জনের অসুস্থতার কারণে মূর্তি পুজো বন্ধ হয়ে যায়। পরের বছর ঘটপুজো হলেও তারপর থেকে আর কোনও পুজোর আয়োজন হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে প্রিয়রঞ্জনের বাড়ির দুর্গাপুজোর সেই চেনা আবহ থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী।এবার বাড়ি ও মন্দিরের সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে—আবার কি প্রিয়দার বাড়িতে দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়বে?
যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পুজো ফের শুরু করার কোনও ঘোষণা হয়নি, তবুও সংস্কারের কাজকে ঘিরে আশাবাদী শ্রীকলোনির বাসিন্দারা।অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলে আরও একটি জল্পনা সামনে এসেছে।
আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে দীপা দাশমুন্সির লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।
সেই প্রেক্ষাপটে প্রিয়রঞ্জনের বাড়ির সংস্কারের কাজকে ঘিরে নানা রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও সামনে আসছে।
যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও নিশ্চিত রাজনৈতিক ঘোষণা নেই।উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের কালিয়াগঞ্জ ব্লক সভাপতি তথা দীপা দাশমুন্সির ঘনিষ্ঠ নেতা সুজিত দত্ত বলেন, “প্রিয়দার বাড়িতে আবার পুজো শুরু হোক, এটা আমি মনেপ্রাণে চাই। প্রিয়দার বাড়িতে ফের দুর্গাপুজো শুরু হলে সবচেয়ে বেশি খুশি হব আমি।”উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্তও প্রিয়রঞ্জনের বাড়ির দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করেছেন।
তাঁর কথায়, উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে প্রিয়রঞ্জনের বাড়ির পুজো ছিল অন্যতম। প্রিয়রঞ্জনের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্যই আবার সেখানে দুর্গাপুজো শুরু হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।আবেগঘন সুরে বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, “জীবনের শেষ দিকেই চলে এসেছি।
তাই আর একবার যদি প্রিয়দার বাড়ির দুর্গাপুজো দেখতে পেতাম, তাহলে খুব ভালো লাগত।”একই আবেগ কালিয়াগঞ্জ শহর কংগ্রেস সভাপতি তুলসী জয়সোয়ালের কথাতেও। তিনি বলেন, “এমনিতেই প্রিয়দার কথা মনে পড়লেই খুব খারাপ লাগে। দুর্গাপুজো এলেই সেই কষ্ট আরও বেড়ে যায়। এবার যদি প্রিয়দার বাড়িতে আবার দুর্গাপুজো হয়, তাহলে কয়েকটা দিন প্রিয়দাকে নিয়ে আলোচনা হবে, স্মৃতিচারণ হবে—এটাই খুব ভালো লাগবে।
”সংস্কারের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে তাই শুধু একটি বাড়ির সংস্কার নয়, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির স্মৃতি, ঐতিহ্য এবং তাঁর বাড়ির দুর্গাপুজোকে ঘিরে পুরনো আবেগও যেন নতুন করে জেগে উঠেছে কালিয়াগঞ্জে। এখন শ্রীকলোনির বাসিন্দাদের একটাই প্রত্যাশা—প্রিয়হীন বাড়িতে ফের একদিন কি জ্বলবে দুর্গাপুজোর প্রদীপ?
