পালাবদলের পর কালিয়াগঞ্জে দুর্নীতির ফাইল কি খুলবে? তদন্তের দাবিতে সরব সাধারণ মানুষ, কাটমানি, গোপন বৈঠক, সম্পদের পাহাড়— কালিয়াগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন

 তন্ময় চক্রবর্তী রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় পূর্বতন শাসকদলের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। কোথাও পঞ্চায়েত প্রধান, কোথাও আবার পৌরসভার কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং গ্রেফতারের ঘটনাও সামনে আসছে।

এই পরিস্থিতিতে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পৌরসভাকেও ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা।শহরের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক আড্ডায় এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত কি এবার হবে?স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, পূর্বতন পৌর বোর্ডের আমলে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছিল।

 

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ক্ষেত্রে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছ থেকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ বহুবার শোনা গিয়েছে বলে দাবি করছেন অনেকে। যদিও এই অভিযোগের কোনও সরকারি প্রমাণ বা বিচারিক সিদ্ধান্ত এখনও সামনে আসেনি।এছাড়াও শহরের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে, কিছু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যদের পৌরসভার কার্যকলাপে অস্বাভাবিক সক্রিয়তা নিয়ে।

অনেকের প্রশ্ন, পৌরসভার প্রশাসনিক কাজে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল এবং সেই সময়ে বিভিন্ন বৈঠক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁদের কোনও প্রভাব ছিল কি না। এই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত বলে মত স্থানীয়দের একাংশের।অন্যদিকে, অতীতে কিছু কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।

 

অভিযোগ উঠেছে, নাগরিক পরিষেবা পেতে অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষকে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হতো। যদিও সংশ্লিষ্টদের তরফে এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করা হয়েছে।সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীর আর্থিক অবস্থার আকস্মিক পরিবর্তন নিয়ে।

 

সাধারণ মানুষের একাংশের দাবি, সীমিত বেতনের চাকরি করেও কিছু কর্মচারীর বিপুল সম্পত্তি ও বিলাসবহুল বাড়িঘর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের সম্পদের উৎস কী, তা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত বলে দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।স্থানীয়দের বক্তব্য, যদি কোনও অভিযোগ ভিত্তিহীন হয় তবে তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার হওয়া উচিত।

 

আবার যদি কোথাও অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ফলে কালিয়াগঞ্জে এখন একটাই দাবি জোরালো হচ্ছে— সত্য সামনে আসুক, হোক নিরপেক্ষ তদন্ত।কালিয়াগঞ্জের সাধারণ মানুষের দাবি— রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হোক, আর সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।