পদ্ম পলাশের পদাবলী কীর্তনে ভক্তির প্লাবন—কালিয়াগঞ্জ নাট মন্দির প্রাঙ্গন হয়ে উঠল সত্যিকারের বৃন্দাবন ধাম
তপন চক্রবর্তী :- কালিয়াগঞ্জের মহেন্দরগঞ্জ নাট মন্দির প্রাঙ্গনে কীর্তিনিয়া পদ্ম পলাশের পদাবলী কীর্তনে ভক্তির এমন জোয়ার দেখা গেল, যা দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো। আট দিনব্যাপী ৬৪ প্রহর মহা নামযজ্ঞ অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে সোমবার ভোরে অনুষ্ঠিত কুঞ্জভঙ্গ অনুষ্ঠানে কলকাতা থেকে আগত পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট কীর্তনীয়া পদ্ম পলাশের কীর্তন শুনতে হাজার হাজার ভক্তের আগমনে নাট মন্দির প্রাঙ্গন যেন একেবারে বৃন্দাবন ধামে পরিণত হয়।এমনিতেই মহেন্দরগঞ্জ নাট মন্দির ‘মিনি বৃন্দাবন ধাম’ নামে পরিচিত।

তবে এবছর ৬৪ প্রহর নামযজ্ঞ কমিটির সম্পাদক প্রকাশ কুন্ডু ও সভাপতি সুনীল সাহা-সহ কমিটির সদস্যদের সক্রিয় উদ্যোগে পদ্ম পলাশের আগমনে শুধু মহেন্দরগঞ্জ নয়, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, কুশমণ্ডি ও রায়গঞ্জের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা পদাবলী কীর্তন শ্রবণের জন্য নাট মন্দিরে সমবেত হন।কীর্তন চলাকালীন ভক্তদের পদধ্বনি, করতালের তালে তালে নামসংকীর্তন এবং আবেগে ভরপুর পরিবেশে গোটা এলাকা আধ্যাত্মিকতায় ভরে ওঠে। লক্ষণীয় বিষয়, শুধু প্রবীণ ভক্তরাই নন—যুবক-যুবতীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।এক প্রবীণ ভক্ত বলেন,“এত সুরেলা, হৃদয়ছোঁয়া কীর্তন কালিয়াগঞ্জে আগে কখনও শুনেছি বলে মনে পড়ে না।
চোখ বুজে শুনলে মনে হয় বৃন্দাবনেই বসে আছি।”এক তরুণ ভক্তের বক্তব্য,“পদ্ম পলাশের কণ্ঠে এমন টান আছে যে মন-প্রাণ দিয়ে কীর্তনে ডুবে যেতে হয়। আজকের কীর্তন আমাদের মন ছুঁয়ে গেল।”নাট মন্দিরের সম্পাদক প্রকাশ কুন্ডু বলেন,“ভক্তদের ভক্তি ও ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। পদ্ম পলাশের মতো একজন বিশিষ্ট কীর্তনীয়াকে এখানে আনতে পারা আমাদের সৌভাগ্য। কমিটির সকল সদস্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন বলেই আজ এত বড় আয়োজন সফল হয়েছে।”অনুষ্ঠান শেষে অসংখ্য ভক্ত নাট মন্দির কমিটির সভাপতি, সম্পাদক ও সদস্যদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। ভক্তমহলের মতে, এই কীর্তন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—কালিয়াগঞ্জের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
