নৌকায় চড়ে বানভাসি এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা, বন্যার মধ্যেই দুর্গতদের পাশে মালদার অতিরিক্ত মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক হেমনারায়ণ ঝা
চারদিকে শুধু জল আর জল। ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত মালদার মানিকচকের ভূতনী। কোথাও বাড়িঘর জলের তলায়, কোথাও আবার যোগাযোগের একমাত্র ভরসা নৌকা। এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্য পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত এক করে কাজ করে চলেছেন জেলার অতিরিক্ত মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ হেমনারায়ণ ঝা।শুধু দফতরে বসে পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়া নয়, নিজেই নৌকায় চেপে বানভাসি বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি।
দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, অসুস্থদের শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা পরিষেবাও প্রদান করছেন। বন্যার জল পেরিয়ে চিকিৎসকের এই সরাসরি পরিষেবা প্রদান ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে।এদিকে, এবারের ভয়াবহ বন্যায় দক্ষিণ চণ্ডীপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র জলমগ্ন হয়ে পড়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবা সচল রাখতে সেটিকে সরিয়ে উত্তর চণ্ডীপুরের চণ্ডী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও বন্যার জল ঢুকে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিতভাবে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে চলেছেন।পুরো পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজরদারি চালাচ্ছেন ডাঃ হেমনারায়ণ ঝা। কখনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে, আবার কখনও নৌকায় করে দুর্গত এলাকায় গিয়ে পরিষেবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন তিনি।ডাঃ হেমনারায়ণ ঝার বক্তব্য, বন্যার কারণে ভূতনীর মানুষ প্রচণ্ড সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। এই কঠিন সময়ে অসুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। তাই নৌকায় করে দুর্গত এলাকায় ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বন্যার কারণে কোনও মানুষ যাতে চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে সমস্ত রকমের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।বন্যার জল যতই বাধা হয়ে দাঁড়াক, মানুষের কাছে চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে পিছপা নন স্বাস্থ্যকর্মীরা—ভূতনীর বানভাসি এলাকায় সেই মানবিক ছবিই যেন ফুটে উঠছে।

