নববর্ষের সকালে ভক্তদের ঢল, কালিয়াগঞ্জে মা বয়রা মায়ের মন্দিরে উপচে পড়া ভিড় 🟥

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ১৫ এপ্রিল: বাংলা নববর্ষের পুণ্যলগ্নে ভক্তিমুখর পরিবেশের সাক্ষী থাকল কালিয়াগঞ্জ। শহরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মা বয়রা মায়ের মন্দির-এ বছরের প্রথম দিন ভোর থেকেই ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। সকাল হতেই মন্দির প্রাঙ্গণে লম্বা লাইন—কারও হাতে ফুল, কারও হাতে প্রসাদ, সবার মুখে একটাই প্রার্থনা—মায়ের আশীর্বাদে যেন সারাবছর শান্তি ও সুখে কাটে।ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই শুরু হয়ে যায় পুজো অর্চনা। ভক্তরা ধৈর্য ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে একে একে মায়ের দর্শন নিচ্ছেন।

মন্দির চত্বরে ভক্তিমূলক সঙ্গীত, ধূপ-ধুনোর গন্ধ আর শঙ্খধ্বনিতে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা নববর্ষের অনুভূতিকে আরও গভীর করে তুলেছে।লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনামিকা আচার্য নামে এক ভক্তের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন,“আজ আমাদের বাঙালিদের নতুন বছরের শুরু। এই শুভ দিনে আমরা মায়ের কাছে প্রার্থনা করি—সারা বছর যেন মা আমাদের ভালো রাখেন, পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। আমরা ধন-সম্পদ চাই না, শুধু চাই মায়ের আশীর্বাদে যেন হেসে-খেলে সুন্দরভাবে জীবন কাটে।”শুধু অনামিকা দেবী নন, মন্দিরে আগত বহু মহিলা ভক্তের মুখে একই সুর—নববর্ষের প্রথম দিনে দেবীর চরণে প্রার্থনা করে মনোবাঞ্ছা পূরণের আশা। অনেকেই বিশ্বাস করেন, বছরের প্রথম দিনে মা বয়রার দর্শন করলে সারা বছর ভালো কাটে।মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভক্তদের সুবিধার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লাইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে মায়ের দর্শন করতে পারেন।ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে কালিয়াগঞ্জে নববর্ষের এই চিত্র যেন বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতির প্রতিফলন। নতুন বছরের শুরুতে মায়ের চরণে মাথা নত করে ভক্তরা যেন খুঁজে নিলেন মানসিক শান্তি, আশ্বাস এবং নতুন করে বাঁচার প্রেরণা।নববর্ষের এই পবিত্র দিনে মা বয়রা মায়ের মন্দির হয়ে উঠেছে ভক্তি, বিশ্বাস ও আবেগের মিলনক্ষেত্র—যেখানে প্রতিটি প্রার্থনায় জড়িয়ে আছে শান্তি, সুখ ও আশীর্বাদের প্রত্যাশা।