ডেঙ্গির বিরুদ্ধে জৈবিক যুদ্ধ শুরু! শহরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে হাজার হাজার গাপ্পি মাছ ছাড়ল কালিয়াগঞ্জ পৌরসভা

তপন চক্রবর্তী, কালিয়াগঞ্জ, ৪ আগস্ট: ডেঙ্গির বাড়তে থাকা প্রকোপ রুখতে এবার অভিনব উদ্যোগ নিল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পৌরসভা। রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে মশার বংশবিস্তার রোধ করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নর্দমা, জলাশয় ও জল জমে থাকা এলাকায় হাজার হাজার গাপ্পি মাছ ছাড়া হয়। মশার লার্ভা খেয়ে ফেলার ক্ষমতা থাকায় গাপ্পি মাছকে ডেঙ্গি প্রতিরোধের কার্যকর জৈবিক মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।এদিন পৌরসভার উদ্যোগে একাধিক ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

উপস্থিত থেকে গাপ্পি মাছ অবমুক্ত করেন কালিয়াগঞ্জ পৌরসভার কমিশনার গৌরাঙ্গ দাস, কমিশনার গৌতম বিশ্বাস, কমিশনার পিয়ালী সাহা, পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুরজিৎ কৌরি এবং পৌরসভার সাফাই বিভাগের কর্মীরা।

একই সঙ্গে এলাকাবাসীকেও ডেঙ্গি প্রতিরোধে সচেতন করার জন্য প্রচার চালানো হয়।কমিশনার গৌরাঙ্গ দাস বলেন,“ডেঙ্গি প্রতিরোধে শুধু পৌরসভার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি। গাপ্পি মাছ মশার লার্ভা খেয়ে ফেলে, ফলে মশার বংশবিস্তার অনেকটাই কমে যায়। তাই শহরের বিভিন্ন জলাশয় ও নর্দমায় এই মাছ ছাড়া হচ্ছে। পাশাপাশি আমরা নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কার, ফগিং, লার্ভিসাইড স্প্রে এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। সকলের কাছে আবেদন, বাড়ির আশপাশে কোথাও জল জমতে দেবেন না এবং পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখুন।“পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সুরজিৎ কৌরি জানান, ডেঙ্গি প্রতিরোধে এটি একটি বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। আগামী দিনেও শহরের প্রয়োজনীয় এলাকায় পর্যায়ক্রমে গাপ্পি মাছ ছাড়া হবে এবং নজরদারি চালানো হবে।এদিনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত দাস বলেন,“ডেঙ্গি নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। পৌরসভার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। যদি নিয়মিত এভাবে গাপ্পি মাছ ছাড়া হয় এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে, তাহলে ডেঙ্গির প্রকোপ অনেকটাই কমবে।“আরও এক বাসিন্দা মৌসুমি সরকার বলেন,“শুধু পৌরসভা নয়, আমাদেরও সচেতন হতে হবে। বাড়ির টব, ড্রাম বা ছাদে কোথাও জল জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। সবাই একসঙ্গে কাজ করলেই ডেঙ্গি প্রতিরোধ সম্ভব।“পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্ষাকালে ডেঙ্গি সংক্রমণ রুখতে আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ফগিং, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতা প্রচার এবং গাপ্পি মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের আশা, নাগরিকদের সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে কালিয়াগঞ্জকে ডেঙ্গিমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।