“জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা”—রায়গঞ্জে তৃণমূল প্রার্থীকে ঘিরে জনমতের ঝোঁক, কী বলছেন শহর-গ্রামের মানুষ? 

 

তন্ময় চক্রবর্তী  :– উত্তর দিনাজপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র। এবারের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে চতুর্মুখী লড়াই তৈরি হলেও, বাস্তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি-র মধ্যে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।দিন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক চর্চা, চুলচেরা বিশ্লেষণ আর কৌতূহল—কে হবেন আগামী দিনের বিধায়ক? চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া মোড়, সর্বত্র এখন একটাই আলোচনা—রায়গঞ্জের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কার হাতে যাবে।এই আবহেই বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে উঠে আসছে একটি স্পষ্ট প্রবণতা। একাংশের মানুষের দাবি, এমন একজন প্রতিনিধিকেই তারা চান যিনি শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর তাঁদের পাশে থাকেন। সেই প্রসঙ্গেই অনেকেই উল্লেখ করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী-র নাম।স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, “দুঃসময়ে যিনি পাশে দাঁড়ান, তিনিই প্রকৃত নেতা।”

 

তাঁদের দাবি, সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে নিয়মিতভাবে মানুষের পাশে থাকার জন্য কৃষ্ণ কল্যাণী ইতিমধ্যেই একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন এলাকায়।বিশেষ করে করোনা অতিমারির সময় তাঁর উদ্যোগে পরিচালিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর মতো সামাজিক কর্মসূচি বহু মানুষের কাছে সহায়ক হয়ে উঠেছিল বলে জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। শহর থেকে ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ এখনও আলোচনায় রয়েছে।রায়গঞ্জের বিভিন্ন অংশে কথা বলে উঠে এসেছে নানা মতামত—সাধারণ মানুষ অনেকেই বলছেন, “আমরা এমন কাউকে চাই, যিনি সারা বছর পাশে থাকেন, এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণীর বক্তব্য,“আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। রায়গঞ্জের মানুষ আমার পরিবার। সুখে-দুঃখে তাঁদের পাশে থাকা আমার দায়িত্ব। করোনা সময় হোক বা অন্য কোনো বিপদ—আমি চেষ্টা করেছি সবসময় মানুষের পাশে থাকতে।

আগামী দিনেও রায়গঞ্জের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করে যেতে চাই।”তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার বিষয় নয়, সেবার বিষয়। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের প্রভাবও এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা, অন্যদিকে প্রার্থীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ—এই দুইয়ের মিশ্রণ ভোটের অঙ্কে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।সব মিলিয়ে, রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের মঞ্চ। তবে মাঠের একাংশের জনমত যেদিকে ইঙ্গিত করছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে—ব্যক্তিগত জনসংযোগ, সমাজসেবা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক এই নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।নির্বাচনের প্রাক্কালে রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র-এ প্রচারে জোর কদমে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জনসংযোগের পাশাপাশি তিনি তুলে ধরছেন গত পাঁচ বছরের কাজের বিস্তারিত রিপোর্ট কার্ড।প্রচারে গিয়ে প্রায় প্রতিটি সভা ও পথসভায় কৃষ্ণ কল্যাণী সাধারণ মানুষের সামনে তাঁর কাজের খতিয়ান তুলে ধরছেন। লিফলেটের মাধ্যমে তিনি জানাচ্ছেন, তাঁর ‘সমাধান কার্যালয়’-এর মাধ্যমে কী কী পরিষেবা দেওয়া হয়েছে, কী ধরনের জনসেবা মূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং গ্রামাঞ্চলে কীভাবে উন্নয়নের কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে।কৃষ্ণ কল্যাণীর দাবি, গত পাঁচ বছরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অনুপ্রেরণায় রায়গঞ্জ বিধানসভা এলাকায় প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই পরিমাণ উন্নয়ন উত্তরবঙ্গের বহু বিধানসভা কেন্দ্রের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।তিনি প্রচারে আরও বলেন, “আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকতে এবং উন্নয়নের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। রাস্তাঘাট, পানীয় জল, আলো, স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের ধারাকে বজায় রাখা হয়েছে।”ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “জনগণ যদি আমাকে আবার সুযোগ দেন, তাহলে তাঁদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব। রায়গঞ্জকে উন্নয়ন, কল্যাণ ও অগ্রগতির পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য।”প্রচারের ময়দানে এই ‘রিপোর্ট কার্ড’ কৌশল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, উন্নয়নের পরিসংখ্যান ও কাজের হিসাব তুলে ধরা এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।সব মিলিয়ে, রায়গঞ্জ বিধানসভায় নির্বাচনী প্রচার যতই জোরদার হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে—এই লড়াই শুধু প্রতিশ্রুতির নয়, বরং কাজের হিসাব ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনার উপরও নির্ভর করছে।নির্বাচনের আগে রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র-এ রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে একটাই কথা—“এই লড়াইয়ে জয় শুধুই সময়ের অপেক্ষা।” এই মন্তব্য ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী।শহর থেকে গ্রাম—বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে উঠে আসছে তাঁর প্রতি একাংশের মানুষের আস্থা ও সমর্থনের ছবি। অনেকেই মনে করছেন, রাজনীতির পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের জন্য তিনি আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন।রায়গঞ্জ শহরের এক বাসিন্দার কথায়, “ভোটের সময় তো সবাই আসে, কিন্তু সারা বছর যাঁকে পাশে পাওয়া যায়, তাঁকেই মানুষ মনে রাখে। সেই দিক থেকে কৃষ্ণ কল্যাণীর উপস্থিতি আমরা দেখেছি।”গ্রামাঞ্চলের এক কৃষকের বক্তব্য, “চাষের সময় বা সমস্যায় পড়লে যিনি খোঁজ নেন, তাঁর ওপর ভরসা করতেই ভালো লাগে। আমরা কাজ দেখেই বিচার করি।”এক শ্রমজীবী ব্যক্তি বলেন, “কাজ না থাকলে বা বিপদে পড়লে সাহায্য পাওয়া যায় কিনা সেটাই আসল। অনেক সময় সাহায্য পেয়েছি, তাই একটা আস্থা আছে।”এক গৃহবধূর কথায়, “সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি যদি স্থানীয়ভাবে কেউ খোঁজখবর নেন, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই যোগাযোগটা আমরা অনুভব করেছি।”এক শিক্ষক জানান, “শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, মাঠে কাজের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন, তারা কাজের হিসাব দেখেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।”এক ছাত্রের কথায়, “আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি। যে নেতা এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেন, তাঁর দিকেই ঝোঁক বেশি থাকে।”এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, “অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা, অনুষ্ঠান-অনুষ্ঠানে পাশে থাকা—এই বিষয়গুলো মানুষের মনে প্রভাবগ্রাম হোক বা শহর—যেখানেই তিনি প্রচারে যাচ্ছেন, সেখানেই সাধারণ মানুষদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়ছে। অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই এগিয়ে এসে ফুলের মালা দিয়ে তাঁকে বরণ করছেন এবং সমর্থনের বার্তা দিচ্ছেন। “আমরা আপনার পাশে আছি”—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে বহু মানুষের মুখে।কখনও খোলা গাড়িতে জনসংযোগ, কখনও আবার পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি। রায়গঞ্জ বিধানসভার বিভিন্ন গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি—প্রতিটি এলাকায় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন কৃষ্ণ কল্যাণী।এই ধারাবাহিক জনসংযোগের মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় মানুষের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ পেয়ে আপ্লুত বলে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলা, সমস্যার কথা শোনা এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে প্রচারকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলছেন তিনি।”সব মিলিয়ে, রায়গঞ্জের শহর ও গ্রামের একাংশের মানুষের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সমাজসেবা এবং নিয়মিত উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রেই ভোটের সমীকরণে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররাই। এখন দেখার, এই জনমতের প্রতিফলন ব্যালট বাক্সে কতটা পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত রায়গঞ্জের মানুষ কাকে তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।