চোপড়ায় নারীশক্তির ঝড়, দুয়ারে দুয়ারে হামিদুল-জায়ার প্রচার
ভোটের আর মাত্র দু’সপ্তাহ বাকি। তার আগেই উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এই পরিস্থিতিতে প্রচারের ময়দানে জোরদার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সংগঠনের।

গ্রামগঞ্জের অলিগলি চষে বেড়িয়ে কার্যত প্রচারের ঝড় তুলেছে তারা, যেখানে পাল্লা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিরোধীদের।রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প—বিশেষত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, রূপশ্রী ও কন্যাশ্রীকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই জোর প্রচারে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। রবিবার লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক বুথে তৃণমূলের নিবিড় জনসংযোগ কর্মসূচি নজর কাড়ে। দলের প্রার্থী হামিদুল রহমানের সমর্থনে ময়দানে নেমেছেন তাঁর সহধর্মিণী মরিয়ম নেসা। বুথে বুথে গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সরকারের প্রকল্পের সুবিধার কথা তুলে ধরেন তিনি।শুধু পথসভা বা বৈঠকেই সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছেন মরিয়ম নেসা। এমনকি রান্নাঘরেও ঢুকে মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছেন।
একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী করার লক্ষ্যে জোড়াফুলে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।অন্যদিকে, প্রচারের এই জোয়ারে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে মরিয়া বিরোধীরাও। চোপড়া ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মহম্মদ মসিরুদ্দিন জানান, প্রার্থীর মনোনয়নের অপেক্ষা শেষ হলেই মহিলা সংগঠন জোরকদমে প্রচারে নামবে।
সিপিএমের ২ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক বিদ্যুৎ তরফদার বলেন, তাঁদের সমস্ত সংগঠনই ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে ইস্যু করে মানুষের কাছে পৌঁছনো হচ্ছে।বিজেপির তরফেও দাবি করা হয়েছে, মহিলা মোর্চা গ্রামে গ্রামে প্রচার চালাচ্ছে। বিজেপি নেতা ভবেশ কর জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের পাশাপাশি মহিলাদের জন্য ৩ হাজার টাকার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ ও নারী সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে দল।তবে সাধারণ ভোটারদের একাংশের মতামতে স্পষ্ট, এখনও অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন ‘দিদি’।
লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা সালেহা খাতুন বলেন, “আমরা দিদিকেই চাই। তিনি যা বলেন, তা রাখেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে স্বাস্থ্যসাথী—সব সুবিধাই পেয়েছি।” অপর এক বাসিন্দা নুর বানু জানান, রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দামে কেন্দ্রের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে, তাই দিদির হাত শক্ত করাই তাঁদের লক্ষ্য।সব মিলিয়ে, ভোটের প্রচারের পারদ যতই চড়ছে, চোপড়ার মাটিতে নারীশক্তির এই রাজনৈতিক লড়াই ততই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

