“চাকরি দাও, না হলে টাকা ফেরত দাও” — কালিয়াগঞ্জে মাদ্রাসার সামনে তৃতীয় দিনের ধরনা, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চাঞ্চল্য
উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ২ নম্বর ধনকৈইল গ্রাম পঞ্চায়েতের হযরতপুর এলাকায় অবস্থিত হযরতপুর ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সামনে চাকরির দাবিতে এবং টাকা ফেরতের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো ধরনায় বসেছেন পাঁচজন অভিযোগকারী। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।ধর্নায় অংশগ্রহণকারী রুবিনা পারভিন, মাক্সসেমুল হক, কাউম হক, আইনুল হক ও সাত্তার আলি-র অভিযোগ, ২০০৯ সালে ওই মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক কেটে গেলেও তাঁদের কারও চাকরি হয়নি। শুধু তাই নয়, বহুবার যোগাযোগ করেও টাকা ফেরত পাননি বলে অভিযোগ তাঁদের।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, বছরের পর বছর ধরে তাঁরা বিভিন্নভাবে বিষয়টির সমাধান চাওয়ার চেষ্টা করেছেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা মাদ্রাসার সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও ধরনা কর্মসূচি শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন।ধর্নায় অংশ নেওয়া অভিযোগকারীদের একটাই দাবি— “চাকরি দিতে হবে, না হলে নেওয়া টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।” তাঁদের দাবি, এই ঘটনায় তাঁরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাই প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সুবিচারের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।এদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষিকা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “এটি সম্পূর্ণ আমাদের পারিবারিক বিষয়। চাকরির নামে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অসত্য।”ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্যের ফলে ঘটনাটি নিয়ে দ্বিমত তৈরি হয়েছে। ফলে প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের তদন্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।উল্লেখ্য, এই অভিযোগগুলি অভিযোগকারীদের দাবি এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিষয়টি প্রশাসনিক বা বিচারিক তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।


